আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম থেকে সরে আসার শর্ত দিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে কোনো পরমাণু আলোচনা নয়-এই অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইরান। সোমবার (১৪ জুলাই) রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনার বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বেশ কয়েক দফা আলোচনা ও দরকষাকষিতে বসেছিল তেহরান। তবে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইসরায়েলের আকস্মিক বিমান হামলা এবং এর পাল্টা জবাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর ওই আলোচনা ভেস্তে যায়। টানা ১২ দিনের এই সংঘাতের পর উভয় দেশ ফের আলোচনায় ফিরতে ইঙ্গিত দিলেও নতুন করে আলোচনা শুরুর আগে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা আলি বেলায়েতি বলেন, ‘ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের শর্তে কোনো আলোচনা হবে না।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকার থেকে ইরান সরে আসবে না।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার দিন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এখনো কোথায়, কবে এবং কখন ওই বৈঠক হবে তা নির্ধারণ হয়নি।’ এই প্রসঙ্গে মুখপাত্র ইসমাইল বাকি বলেন, ‘আমরা কূটনীতি ও দরকষাকষিকে বিশেষ গুরুত্ব দিই এবং খোলা মনে আলোচনায় বসেছিলাম। কিন্তু আপনারা দেখেছেন, ষষ্ঠ দফার আলোচনার আগে ইসরায়েলের জায়নবাদী শাসকের সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে।’
এদিকে, সোমবার এক বিবৃতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ইরান সবসময় কূটনীতি ও গঠনমূলক আলোচনাকে সমর্থন করে। আমরা বিশ্বাস করি, এখনো কূটনীতির পথ খোলা আছে এবং আমরা শান্তিপূর্ণ পথেই চলব।’
বর্তমানে ইরানই একমাত্র দেশ, যারা পরমাণু অস্ত্রের মালিক না হয়েও ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে এর চেয়েও বেশি মাত্রায় সমৃদ্ধকরণ প্রয়োজন।