আজ থেকে শুরু হয়েছে ঈদুল ফিতরের ছুটি। টানা সাত দিনের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষ রাজধানী ঢাকা ছেড়ে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে স্বস্তির খবর হলো এবারের ঈদ যাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার ১০৪ কিলোমিটার অংশে এখনো পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল ১০টার পর থেকে মহাসড়কে যানজট না থাকলেও পরিবহনের চাপ বেড়েছে।
এবারের ঈদ যাত্রায় স্বস্তি প্রকাশ করছেন চালক ও যাত্রীরা। তারা বলছেন বিগত সময়ে ব্যস্ততম এই মহাসড়কে তীব্র যানজটের কবলে পড়ে ঘরমুখো মানুষদের দুর্ভোগে পড়লেও এবার সেই ভোগান্তি নেই।
এদিকে এবারে যানজট মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশের ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, এবারের ঈদযাত্রা হাইওয়ে পুলিশ চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা আনন্দদায়ক করতে আমরা ২৪ ঘণ্টা মহাসড়কে অবস্থান করছি। আজ থেকে ঈদের ছুটি শুরু হলেও এখনো পর্যন্ত যানচলাচল স্বাভাবিক আছে। তবে মহাসড়কে পরিবহনের চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামমুখী লেনে।
কুমিল্লা এশিয়ান পরিবহনের চালক আবুল কালাম বলেন, আজ থেকে ঈদের ছুটি শুরু হলেও এখনো পর্যন্ত মহাসড়কে যানজট নেই। ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিটে ঢাকা থেকে কুমিল্লায় পৌঁছাতে পেরেছি। পুলিশ সক্রিয় থাকলে আশা করি মহাসড়কে যানজট থাকবে না।
কামাল হোসনে নামে এক যাত্রী বলেন, ঈদে বাড়ি, পথে যানজট থাকবে না এটা বিশ্বাস হয়। প্রতি বছরই ২-৪ ঘণ্টা বেশি সময় হাতে নিয়ে বাসা থেকে বের হই। তবে এবারের যাত্রা ব্যতিক্রম। অনেক অনন্দদায়ক ছিল। পথে ভোগান্তি ছিল না বললেই চলে। মাত্র আড়াই ঘণ্টায় হানিফ পরিবহনের কুমিল্লা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড় এসে নামলাম। পুলিশ বিভাগসহ দেশের প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানায়।
এ বিষয়ে কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার শাহীনুর আলম বলেন, মহাসড়কের ঈদযাত্রায় যাত্রীদের বিড়ম্বনা কমাতে আগে থেকেই পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে একাধিক মিটিং করা হয়েছে। যানজটপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করছি আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি থাকবে না। নির্বিঘ্নে মানুষ বাড়ি ফিরতে পারবে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, যানজটমুক্ত রাখতে হাইওয়ে পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিক মিটিং করেছি। যেসব এলাকায় আমাদের মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ চলছিল সেখানে কাজ বন্ধ রেখে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া হয়েছে। আশা করছি জাতীয় এই সড়কে এবার ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমবে।