বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের বাগাতিপাড়ায় চলমান এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন ৩ নারী জনপ্রতিনিধি। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩ জনের ২জন উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের বর্তমান ও সাবেক সংরক্ষিত মহিলা সদস্য এবং অন্যজন বাগাতিপাড়া পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর। তারা সকলেই বাগাতিপাড়া টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী।
জানা যায়, অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ও পারিবারিক অসচ্ছলতায় স্বাভাবিক পড়াশোনা থমকে যায় এই তিন প্রতিনিধির। সে সময় ইচ্ছে থাকা সত্বেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি তাদের। তবে, জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পর নানাভাবে উচ্চতর শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
তাই, দীর্ঘদিন পর স্বামী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অনুপ্রেরণায় আবারও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা। বয়সকে তুচ্ছ করে ২০২২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন বাগাতিপাড়া টেকনিক্যাল এ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের নবম শ্রেণিতে। আর এবছর কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে চলমান এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এই তিন জনপ্রতিনিধি। উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও ফুড প্রসেসিং এ্যান্ড প্রিজারভেশন ট্রেডের পরীক্ষার্থী শিলা খাতুন (৩০) জানান, ৮ম শ্রেণি পাস করার পর বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। এখন তিনি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।
বর্তমানে পড়াশোনা করার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় স্বামীর উৎসাহে আবার লেখাপাড়া শুরু করেছেন তিনি। একই ইউনিয়নের সাবেক সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও ড্রেস মেকিং এন্ড টেইলারিং ট্রেডের পরীক্ষার্থী শাহানাজ পারভীন (৩২) বলেন, পরিবারের ছোট ভাই বোনদের পড়াশোনার কথা চিন্তা করে অল্প বয়সে বিয়ে দেয় তার পরিবার। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার তীব্র ইচ্ছে থেকেই দীর্ঘসময় পর তার কারিগরি শাখায় ভর্তি হওয়া। এসএসসি পাস করলে উচ্চ শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন এই জনপ্রতিনিধি।
বাগাতিপাড়া পৌরসভার ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও ড্রেস মেকিং এন্ড টেইলারিং ট্রেডের পরীক্ষার্থী মুর্শিদা বেগম (৪৩) জানান, প্রত্যেক জনপ্রতিনিধিরই শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন। সেই প্রয়োজনীয়তা থেকেই লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পরিবারের পাশাপাশি জনসেবামূলক বিভিন্ন কাজে জনপ্রতিনিধিরা নিয়োজিত থাকেন। সকল প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে নেওয়ার যে উদ্যোগ তা প্রশংসার দাবিদার। বয়স যে লেখাপড়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা হতে পারে না এই তিন জনপ্রতিনিধিকে তার দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা।