Logo
ট্রেন্ডিং: ময়মনসিংহ মহানগর জাপার সভাপতি জাহাঙ্গীর গ্রেফতার বগুড়ার ধুনটে নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হোন্ডা-গুণ্ডার রাজনীতি আর চলবে না: হাসনাত আব্দুল্লাহ কক্সবাজারে ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ দুই নারী আটক

কুরআন এবং মডার্ন সাইন্স

BN DESK
07 August 2026, 01:11 PM পড়তে ১ মিনিট

আব্দুল্লাহ আল মামুন : ছয় হাজারেরও বেশি আয়াত রয়েছে পবিত্র কুরআনে, যার মধ্যে এক হাজারেরও বেশি আয়াত আছে বিজ্ঞান নিয়ে। আজকের আলোচনায় প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানের বিষয় নিয়ে কথা বলবো। থিওরি বা তত্ত্ব নিয়ে কোন কথা বলবো না, কারণ আমরা জানি যে, অনেক সময় থিওরি বা তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হতে পারে। আল কুরআন যে পরিপূর্ণ সন্দেহমুক্ত কিতাব, সে বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারীমের সূরা আল বাকারায় অবিশ্বাসীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, "আর তোমরা যদি সে বিষয়ে সন্দেহের মধ্যে থাক যা আমি নাযিল করেছি আমার বান্দা (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর, তাহলে অনুরূপ একটি সুরা রচনা করো এবং আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের সাহায্যকারীদের ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। আর যদি তা করতে না পার, আর নিশ্চয়ই তোমরা তা পারবে না, তাহলে ভয় করো সেই আগুনকে, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর; যা অবিশ্বাসীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

" (সুরা আল বাকারা: ২৩-২৪) আল কুরআনে আলোড়ন সৃষ্টিকারী মহাবিশ্ব সৃষ্টির তত্ত্ব 'মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব' এর বর্ণনা (Big Bang Theory in the holy Quran): কুরআনে বলা হয়েছে, "অবিশ্বাসীরা কি লক্ষ্য করে না যে, আসমানসমূহ ও পৃথিবী একসাথে ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করেছি, আর আমি প্রত্যেক জীবন্ত বস্তুকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছি। তবুও কি তারা বিশ্বাস করবে না?" (সুরা আল-আম্বিয়া: ৩০) আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, মহাবিশ্ব একটি একক বিন্দু থেকে বিস্তৃত হয়েছে (Big Bang)।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এটি মহাবিশ্বের সূচনাকে ব্যাখ্যা করে। পাহাড়ের ভূমিকা: কুরআনে বলা হয়েছে, "তিনি পৃথিবীতে স্থির গর্বত স্থাপন করেছেন, যাতে তা তোমাদের নিয়ে কেঁপে না ওঠে।" (সুরা আন নাহল: ১৫) বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, পর্বতমালাসমূহ পৃথিবীর ভূত্বকের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। পর্বতমালাসমূহ মূলত ভূত্বকের ভেতরে গভীর ভিত্তি বা শিকড়ের মতো কাজ করে যা ভূমিকম্প বা ভূত্বকের অস্থিরতা হ্রাস করে। আল কুরআনে ভূণতত্ত্বের বর্ণনা (Embryology in the holy Quran): কুরআনে বলা হয়েছে, "আমি মানুষকে মিশ্রিত তরল থেকে সৃষ্টি করেছি, যাতে তাকে পরীক্ষা করি। পরে আমি তাকে বিন্যস্ত (নতুন) রূপে পরিণত করেছি, এবং আমি নূতফা (বীর্য) থেকে আলাকা (রক্তের জমাট অংশ), অতঃপর আলাকা থেকে মুদগা (মাংসপিন্ড) সৃষ্টি করেছি, অতঃপর মুগদা (মাংসপিন্ড) থেকে ইযাম (হাড়গোড়) সৃষ্টি করেছি, অতঃপর ইমাম (হাড়গুলো) এ লাহম (মাংস) লাগিয়ে দিয়েছি।" (সুরা আল-মুমিনুন: ১২-১৪) ড. বিশ্ব মুর (Keith Moore)।

একজন প্রখ্যাত ভ্রুণ বিশেষজ্ঞ, এই তথ্যগুলো নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং বলেছেন, "কুরআনে ভ্রূণের যে কর্ণনা দেয়া হয়েছে তা আধুনিক ভ্রূণবিদ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।” পানি জীবনের উৎস: কুরআনে বলা হয়েছে, "আমি প্রত্যেক জীবন্ত বস্তুকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছি।" (সুরা আল-আম্বিয়া: ৩০) আর বিজ্ঞান বলছে, পৃথিবীতে জীবনের উৎপত্তির জন্য পানি অপরিহার্য। জীবনের মৌলিক কার্যক্রমগুলো সম্পন্ন করতে পানি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে কাজ করে। আল কুরআনে মহাজাগতিক ঘটনাবলির বর্ণনা (Cosmology in the holy Quran): আল্লাহ তায়ালা বলেন, "সূর্যের জন্য সম্ভব নয় যে, সে চাঁদের নাগাল পাবে, আর রাতের জন্য (সম্ভব নয়) দিনের অগ্রবর্তী হওয়াও; আর প্রত্যেকে তার নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করছে।" (সুরা ইয়াসিন: ৪০) বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, সূর্য এবং গ্রহগুলো তাদের নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান রয়েছে। এই ধারণা আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আকাশের সুরক্ষা স্তর: আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আমি পৃথিবীর আকাশকে এক সুরক্ষাময় ছাদ বানিয়েছি, কিন্তু তারা এটির নিদর্শনগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।" (সুরা আল-আম্বিয়া: ৩২) আধুনিক বিজ্ঞান বলে যে, পৃথিবীর বায়ুমন্ডল আমাদেরকে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি ও মহাজাগতিক বিকিরণ থেকে রক্ষা করে। এটি একটি 'সুরক্ষা স্তর' হিসেবে কাজ করে। কুরআনে উল্লেখিত বৈজ্ঞানিক তথ্য বলা হয়েছে সাড়ে চৌদ্দশত বছর আগে আর বিজ্ঞান এগুলো প্রমাণ করেছে কিছুদিন পূর্বে। এ থেকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে, আল কুরআন সর্বশক্তিমান, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা ও সর্বজ্ঞানী মহান আল্লাহর বাণী।

লেখক: শিক্ষার্থী, ফলিত গণিত বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। Abdullahallmamun96091@gmail.com ০১৩০৯-১১৪০০৫

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
উপ-সম্পাদকীয়

কুরআন এবং মডার্ন সাইন্স

B
BN DESK | 07 August 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার