চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মাসুদপুর সীমান্তের পদ্মা নদীতে ভাসমান দুই বাংলাদেশীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা হলেন-শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের তারাপুর হঠাৎপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪০) এবং একই গ্রামের মৃত মতূর্জা রেজার ছেলে সেলিম রেজা (৩৫)।
স্থানীয়, পুলিশ ও বিজিবি সূত্র জানায়, আজ শনিবার (২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে সদর উপজেলার নারায়ণপুর ও শিবগঞ্জের পাঁকা ইউনিয়নের সীমানায় ভাসমান প্রায় অর্ধগলিত মরদেহ দু’টি উদ্ধার করে বিকেলে গ্রামে নিয়ে আসেন স্বজনরা। এই দুই বাংলাদেশী গত ৩১ জুলাই দিবাগত রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
তবে কীভাবে তারা নিখোঁজ হলেন এবং তারা কী কাজ করত তা নিশ্চিত করেনি বিজিবি, পুলিশ বা দায়িত্বশীল কোন সূত্র। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তারা রাজমিস্ত্রী, নদীতে মাছ ধরা, সীমান্ত চোরাচালানসহ বিভিন্ন কাজে জড়িত ছিলেন। নিখোঁজের পর থেকে স্বজনরা নদীতে তাদের খোঁজ করছিল।
পাঁকা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের নিশপাড়া এলাকার নদী থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার হয় বলে জানা গেছে। প্রাথমকিভাবে মৃত শফিকুলের মুখে থেতলানোর চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে দু’জনের পরিবার থেকে কোন অভিযোগ সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট মনাকষা ইউপি’র ৮নং ওয়ার্ড সদস্য সমির উদ্দিন বলেন, ওই দু’জন কীভাবে নিখোঁজ হল তা নিশ্চিত নয়। তারা মাছ ধরা, রাজমিস্ত্রী এমনকি সীমান্ত চোরাচালানে জড়িত ছিল বলেও জানা গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (৫৩ বিজিবি) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফাহাদ মাহমুদ রিংকু বলেন, সীমান্তের আড়াই কিলোমিটার বাংলাদেশের ভেতরে পদ্মা নদীতে ভাসমান মরদেহ দু’টি উদ্ধারের পর পুলিশে হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিজিবি ঘটনাগুলো তদন্ত করে দেখছে।
মৃতদের পরিবারের পক্ষে এখনও কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়া বলেন, রাজশাহীর গোদাগাড়ী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি শিবগঞ্জ পুলিশের সহায়তায় ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।