Logo
ট্রেন্ডিং: ময়মনসিংহ মহানগর জাপার সভাপতি জাহাঙ্গীর গ্রেফতার বগুড়ার ধুনটে নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হোন্ডা-গুণ্ডার রাজনীতি আর চলবে না: হাসনাত আব্দুল্লাহ কক্সবাজারে ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ দুই নারী আটক

নদী নয়- এ যেন বিস্তীর্ণ মরুভূমি

BN DESK
04 September 2026, 03:13 PM পড়তে ১ মিনিট

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: একসময় দিগন্তজোড়া জলরাশি আর উত্তাল ঢেউয়ের গর্জনই ছিল যার পরিচয়, সেই যমুনা এখন শান্ত, নিস্তেজ। বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার তেকানি চুকাইনগর ও পাকুল্যা ইউনিয়ন ঘেঁষে বয়ে যাওয়া যমুনা নদী এখন পানিশূন্য।

যেখানে বড় বড় মালবাহী নৌকা চলত, সেখানে এখন মাইলের পর মাইল শুধু ধু-ধু বালুচর। যমুনার এই কঙ্কালসার রূপ দেখে মনে হয়, নদী নয়- এ যেন এক বিস্তীর্ণ মরুভূমি। স্থানীয়দের দাবি নদীটি খনন করে কৃষকদের বছর জুড়ে সেচ সুবিধার আওতায় আনার।

সরেজমিনে দেখা যায়, যমুনার মূল গতিপথ এখন সরু নালায় পরিণত হয়েছে। যোজন যোজন দূর পর্যন্ত কেবল তপ্ত বালু আর রোদের ঝিলিক। মাঝনদীতে এখন হেঁটেই পার হচ্ছেন চরাঞ্চলের মানুষ। অথচ কয়েক দশক আগেও এই নদী ছিল স্থানীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। নদীকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছিল জমজমাট ব্যবসা-বাণিজ্য ও মৎস্যজীবীদের ব্যস্ত জীবন।

আজ সেই নদী তার যৌবন হারিয়ে এখন নামমাত্র অস্তিত্ব নিয়ে টিকে আছে। বিপন্ন জনপদ ও প্রকৃতি হারিয়েছে রূপ, জেগেছে চর। যমুনার এই পানিশূন্যতায় সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন কৃষি ও মৎস্যজীবীরা। কয়েক হাজার জেলে পরিবার যারা এই নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত, তারা এখন কর্মহীন।

নদীতে পানি না থাকায় মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর পানি দিয়ে একসময় চরাঞ্চলের জমিতে সেচ দেওয়া হতো। এখন ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সেচ খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। দেশি প্রজাতির মাছ থেকে শুরু করে জলজ প্রাণি প্রায় বিলুপ্তির পথে।

নদীতে পানি না থাকলেও জীবন তো থেমে থাকে না। তাই জেগে ওঠা ধু-ধু বালুচরেই এখন চলছে টিকে থাকার লড়াই। চরের পলিমাটিতে কৃষকরা মিষ্টি কুমড়া, ভুট্টা ও চিনা বাদাম, পেঁয়াজ, রসুন ও মরিচ চাষ করছে। তবে এই আবাদ করতে গিয়ে তপ্ত বালুর সাথে যুদ্ধ করতে হচ্ছে কৃষকদের। পানি সংকটের কারণে ফলন নিয়ে সবসময়ই দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় তাদের।

স্থানীয়দের মতে, যমুনার নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত ড্রেজিং বা খনন করা এখন সময়ের দাবি। সময়মতো খনন না করায় উজান থেকে আসা পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। এর ফলে বর্ষায় নদী দুকূল ছাপিয়ে ভয়াবহ ভাঙন সৃষ্টি করে, আর শুকনা মৌসুমে হয়ে যায় পানিশূন্য মরুভূমি।

এ বিষয়ে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, যমুনা নদীর ৩.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকা (একটি অংশ) খননের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো আছে। সেটি এখনও অনুমোদন পায়নি। যমুনা নদী খনন একটি কঠিন প্রক্রিয়া। কারন নদীটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ অনেক দীর্ঘ। তাই চাইলেই এই নদী খনন করা সম্ভব না। তবে বর্তমান সরকারের শাসনামলে নদীটি খননের আবারও উদ্যোগ নেয়া হলে তা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে।

এলাকা: বগুড়া সোনাতলা
পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
রাজশাহী

নদী নয়- এ যেন বিস্তীর্ণ মরুভূমি

B
BN DESK | 07 March 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার