সুজানগর (পাবনা) প্রতিনিধি : পাবনায় পেঁয়াজ সংরক্ষণে আধুনিক পদ্ধতির এয়ার ফ্লো মেশিন পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। বর্তমানে ক্রমাগত সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণে ঝুঁকছেন চাষিরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় পাবনার ৯টি উপজেলার মোট ৮শ’ জন কৃষকের মাঝে আধুনিক পদ্ধতির এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়।
পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মো. রাফিউল ইসলাম জানান, পেঁয়াজ উৎপাদনে দেশে পাবনার সুজানগর উপজেলা প্রথম। অন্যান্য উপজেলায়ও বেশ পেঁয়াজ আবাদ করা হয়। অথচ জেলার কৃষকেরা বছরের পর বছর সনাতন পদ্ধতিতে টিনের ঘর বা সেমিপাকা ঘরে বাঁশের মাচায় পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে আসছিলেন। এ পদ্ধতিতে শতকরা ২৫-৩০ ভাগ পেঁয়াজ পঁচে নষ্ট হয়ে যায়। এতে প্রতি বছর কৃষকের হাজার হাজার টাকা লোকসান হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আর্থিক এ ক্ষতির কথা বিবেচনা করে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় আধুনিক পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণে আগ্রহী জেলার ৯টি উপজেলার ৮শ’ জন কৃষকের মাঝে ৮শ’ টি এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করেছে। মেশিনটি কিনতে প্রত্যেক কৃষকের ব্যাংক একাউন্টে ২ হাজার ৭শ’ টাকা প্রদান করা হয়।
উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের আদর্শ কৃষক মো. কামরুজ্জামান বলেন, সনাতন পদ্ধতিতে বাঁশের মাচায় পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এছাড়া এ পদ্ধতিতে একদিকে পেঁয়াজে পচন ধরে অন্যদিকে শুকিয়ে ওজন কমে যায়। পক্ষান্তরে এয়ার ফ্লো মেশিনের মাধ্যমে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করলে পচন ধরেনা। এমনকি ওজনও তেমন কমেনা। এতে কৃষকের লাভ হয়। ফলে তাদের মতো কৃষকেরা অনেক খুশি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ি পাবনার উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক বলেন, দেশে ব্যাপক পেঁয়াজ উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও পচন ধরে নষ্ট হওয়ায় প্রতি বছর হাজার হাজার টন পেঁয়াজ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। কিন্তু এ বছর কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় দেওয়া ওই এয়ার ফ্লো মেশিনের মাধ্যমে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করায় তেমন কোন পচন ধরেনি। এতে বাজার দর স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে এয়ার ফ্লো মেশিন পাবনার কৃষকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কাজেই পেঁয়াজের পচনরোধে আগামীতেও কৃষকের মাঝে সরকারিভাবে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণের কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে।