স্টাফ রিপোর্টার : শীতকে বিদায় জানিয়ে ঋতুরাজ বসন্তের ফাল্গুন মাস চললেও উত্তরবঙ্গের প্রকৃতিতে আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ধরা দিল এক ভিন্ন রূপ। উত্তরের হিমেল হাওয়ার সাথে পাল্লা দিয়ে আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর রাতে দেখা গেছে মাঘের সেই চিরচেনা ঘন কুয়াশা। কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ আর পথঘাট, যা এই সময়ে এক ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি করে।
আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) যারা ভোরে সেহেরি খেতে উঠেছেন তারা উপভোগ করেছেন ফাল্গুনে এক ঘন কুয়াশার আবহ। আর সেই আবহ চেলেছে সকাল পর্যন্ত চলছে। এসময় ঘন কুয়াশার কারণে সামান্য দূরের জিনিসও দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল না। স্থানীয়রা এর আগে ফাল্গুন মাসে এমন কুয়াশা দেখেননি বলেই জানিয়েছেন।
বগুড়া জামিলনগরের ষাটোর্ধ আজমল হোসেন বলেন, রাত ‘৩টার পর থেকেই কুয়াশা পড়া শুরু হয়েছে এবং তা বাড়তে বাড়তে একেবারে ঘন হয়ে আসে। বিশ হাত দূরের জিনিসও দেখা যাচ্ছিল না। ফাল্গুন মাসে হঠাৎ করে এমনভাবে জনপদে কুয়াশা পড়া কোনদিন দেখি নাই। প্রকৃতির মর্জি বোঝা দায়।’
ফাল্গুনের এই সময়ে কুয়াশার প্রাদুর্ভাবে উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা কিছুটা উদ্বিগ্ন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, আমগাছে এখন মুকুল আসছে এবং বোরো ধানের চারা বাড়ছে। এমন সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও গুমোট আবহাওয়া থাকলে আমের মুকুলে ছত্রাকের আক্রমণ হতে পারে। কৃষকদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, পূবালী বায়ু ও পশ্চিমা লঘুচাপের সংমিশ্রণে বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় এই কুয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। উত্তরবঙ্গের উপর দিয়ে আগামী কয়েক দিন ভোরের দিকে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বসন্তের এই মাঝপথে মাঘের মতো এমন ঘন কুয়াশা প্রকৃতির খামখেয়ালি রূপকেই যেন আবারও ফুটিয়ে তুলল।