Logo
ট্রেন্ডিং: ময়মনসিংহ মহানগর জাপার সভাপতি জাহাঙ্গীর গ্রেফতার বগুড়ার ধুনটে নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হোন্ডা-গুণ্ডার রাজনীতি আর চলবে না: হাসনাত আব্দুল্লাহ কক্সবাজারে ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ দুই নারী আটক

ফেসবুকের কল্যাণে ৪০ বছর পর বগুড়া শেরপুরের আপন ঠিকানা খুঁজে পেলেন আঞ্জুমানারা

BN DESK
03 September 2026, 08:28 AM পড়তে ১ মিনিট

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : দীর্ঘ চার দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটলো। ‘শেরপুর’ নামের বিভ্রাট আর প্রযুক্তির আশীর্বাদ ফেসবুকের কল্যাণে ৪০ বছর পর নিজের বাবার ভিটায় ফিরে এলেন হারিয়ে যাওয়া আঞ্জুমানারা। তাকে একনজর দেখতে উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের মহিপুর কলোনি এলাকায় ভিড় জমিয়েছেন শত শত উৎসুক জনতা ও আত্মীয়-স্বজন। আনন্দ-অশ্রুতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে পুরো এলাকায়।

আঞ্জুমানারা মহিপুর কলোনি এলাকার মৃত আবসার আলীর মেয়ে। প্রায় চার দশক আগের কথা। অভাবের তাড়নায় এক প্রতিবেশী চাচার হাত ধরে কাজের সন্ধানে পাড়ি জমিয়েছিলেন রাজধানী ঢাকায়। কিন্তু সেখানে গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে চরম নির্যাতনের শিকার হন তিনি। কষ্ট সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে সেই বাসা থেকে পালিয়ে যান।

এরপর পথে এক মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হলে তিনি তাকে একটি এতিমখানায় রেখে আসেন। এতিমখানা থেকে একসময় কাজের খোঁজে যোগ দেন গার্মেন্টস কারখানায়। সেখানে কাজ করার সুবাদেই পরিচয় হয় মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানার কালাপুর ইউনিয়নের বীরনগর গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। পরে তারা বিয়ে করেন।

বিয়ের পর দুই বছর পরে স্বামীর বাড়ি শ্রীমঙ্গলে চলে যান। এরপর অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে স্বামী সাইফুল পাড়ি জমান প্রবাসে। দীর্ঘ এই ৪০ বছরে আঞ্জুমানারা এক মেয়ে ও তিন ছেলের জননী হয়েছেন। মেয়ে সালমা খাতুন, ছেলে মোহাম্মদ সালমান, রেদওয়ান ও শেহজাদ। সংসার জীবনে সুখ থাকলেও বুকের ভেতর সবসময় রক্তক্ষরণ হতো জন্মভূমির জন্য।

বাবার বাড়ি ফেরার আকুতি থেকে কয়েকবার চেষ্টাও করেছেন ৩০ বছর আগে। কিন্তু ‘শেরপুর’ নামের বিভ্রাটে বগুড়ার শেরপুরের বদলে তিনি ভুল করে চলে যান ময়মনসিংহ জেলার শেরপুরে! সেখানে কাউকে খুঁজে পাননি এমনকি তার গ্রামের নাম খুঁজে না পেয়ে আবার শ্রীমঙ্গলে ফিরে আসেন।

এরপর কেটে যায় আরও ৩০ বছর। অবশেষে প্রযুক্তির আশীর্বাদ ফেসবুকের মাধ্যমে তিনি তার প্রকৃত ঠিকানা বগুড়ার শেরপুরের মহিপুর কলোনির সন্ধান পান। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হওয়ার পর স্বামী-সন্তানদের নিয়ে ছুটে আসেন নাড়ির টানে। দীর্ঘদিন পর বাড়িতে পা রেখেই স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন তিনি।

বাড়ির আঙিনায় কোথায় কী ছিল, কোন আত্মীয়ের কী নাম সব যেন নিখুঁতভাবে বলে যেতে থাকেন। তার স্মৃতিচারণ শুনে উপস্থিত আত্মীয়-স্বজন নিশ্চিত হন যে, এই তাদের সেই হারিয়ে যাওয়া আঞ্জুমানারা। দীর্ঘ বিরহের পর এই মিলনমেলা দেখতে আশপাশের গ্রাম থেকেও উপচে পড়া ভিড় জমে যায়। বোনকে ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা বড় বোন আলেয়া খাতুন।

অশ্রুসিক্ত নয়নে তিনি বলেন, আঞ্জুমানারাকে আমরা অনেক খোঁজখবর নিয়েছি, কিন্তু কোনো সন্ধান পাইনি। অনেকেই বলছিল সে হয়তো আর বেঁচে নেই। আমরা আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। আজ তাকে জীবিত পেয়ে এবং তার ছেলে মেয়েদের দেখে আমাদের যে কী আনন্দ হচ্ছে, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।

আঞ্জুমানারা আবেগাল্পুত কণ্ঠে বলেন, এই দীর্ঘ ৪০টি বছর পর আজ নিজের আপন ঠিকানায় ফিরে আমার খুব ভালো লাগছে।

এলাকা: বগুড়া শেরপুর
পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
রাজশাহী

ফেসবুকের কল্যাণে ৪০ বছর পর বগুড়া শেরপুরের আপন ঠিকানা খুঁজে পেলেন আঞ্জুমানারা

B
BN DESK | 04 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার