শাওন রহমান : বগুড়ায় ইরি-বোরো সেচের জন্য ডিজেল সংগ্রহ করতে কৃষকদের দুর্ভোগ পোহাতে হলেও এখন পর্যন্ত সেচ ব্যাহত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বগুড়ার কৃষি বিভাগ, কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে। বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ায় চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৮৫ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষ হয়েছে।
এরমধ্যে ১ লাখ ৩২ হাজার ৪২০ হেক্টর জমি বিদ্যুৎচালিত সেচপাম্প এবং ৭৮ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমি ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিনের আওতাভূক্ত, যা মোট সেচের ৪২ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ৭৮ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমির সেচের জন্য ৩৮ হাজার ৬৯৪টি ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন ব্যবহৃত হচ্ছে। আর ১৩ হাজার ২২৩টি বিদ্যুৎচালিত পাম্প।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বগুড়ায় বিদ্যুৎচালিত মেশিনের আওতার জমিতে সেচ নিয়ে কোন সংকট নেই। আর ডিজেলের এখন পর্যন্ত কোন সংকট না থাকলেও তা সংগ্রহে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এবং সময়মত পাওয়া যাচ্ছে না। আগে গ্রাম-গঞ্জের বন্দর, হাটে-বাজারে ড্রামে করে খুচরা পর্যায়ে ডিজেল বিক্রি হলেও এখন এসব দোকানে জ্বালানি বিক্রি বন্ধ রয়েছে। এতে করে ডিজেল সংগ্রহের জন্য ফিলিং স্টেশনগুলোতেই যেতে হচ্ছে। আবার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে লাইন ধরে তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে সময় নষ্টের পাশাপাশি খরচও বাড়ছে।
তারা আরও বলছেন, মৌসুম শুরুর আগেই তারা ড্রামে করে ডিজেল কিনে রাখেন। কারণ হিসেবে কৃষকরা বলছেন, শুধু ইরি-বোরো সেচ নয়, বছরজুড়ে অন্য ফসলে সেচসহ ট্রাক্টরে জমি চাষ এবং কাটা-মাড়াই করতেও তাদের ডিজেলের প্রয়োজন হয়। এজন্য বার বার তেল কেনার চেয়ে আগেই বাড়িতে ডিজেল কিনে রাখেন। এছাড়াও স্থানীয় পাম্পগুলো কৃষক হিসেবে তাদের পরিচিত বা কৃষি অফিস থেকে তাদের স্লিপ দেওয়ার কারণে তেল সংগ্রহে সময় লাগলেও এখন পর্যন্ত কোন সমস্যা হয়নি।
জানতে চাইলে বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান বলেন, বগুড়ায় মোট ৫১ হাজার ৯১৭টি সেচপাম্পের মধ্যে ৩৮ হাজার ৬৯৪টি ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন। শ্যালো মেশিনে সেচ দেওয়া জমির পরিমাণ ৭৮ হাজার ৫৮০ হেক্টর। এরমধ্যে ধুনট উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ১৩ হাজার ১১৮ হেক্টর জমি ডিজেলচালিত সেচের আওতায়। আর দুপচাঁচিয়ায় ডিজেলচালিত কোন শ্যালো মেশিন নেই বললেই চলে।
এই কর্মকর্তা বলেন, জ্বালানি সংকটের প্রভাব ইরি-বোরো চাষে পড়বে না। কারণ, আর এক মাস পর থেকে ধান কাটা শুরু হবে। চাষের শুরুতে জমিতে বেশি পানি প্রয়োজন হয়, মাঝখানে খুব বেশি সেচের প্রয়োজন হয় না। আর যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে সেচ নিয়ে কৃষকের কোন দুশ্চিন্তা করতে হবে না।
আগে সহজে হাতের নাগালে ডিজেল মিললেও, এখন জমির কাজ ফেলে ডিজেল সংগ্রহ করতে কৃষকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। তিনি জানান, জ্বালানি সংকটে শ্যালো মেশিন বন্ধ হওয়া বা পানিশূন্য হয়ে জমি শুকিয়ে যাওয়ার খবর এখন পর্যন্ত তাদের কাছে নেই।