ঢাবি প্রতিনিধি: রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে যুবদল নেতাকর্মীদের হাতে এক ব্যবসায়ীকে বিবস্ত্র করে হত্যা করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্র অধিকার পরিষদ।
শনিবার (১২ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে আবার রাজু ভাস্কর্যের সামনেই শেষ হয় এই প্রতিবাদ মিছিল।
বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনটির সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন- আমরা বিএনপি পতনের জন্য মাঠে নামিনি। আমরা কারো শত্রু নই। কিন্তু ভালো মানুষের মুখোশ পরে কেউ যদি সন্ত্রাস, ধর্ষণ আর খুনের রাজনীতি করে, তবে সেই দায় দলকেই নিতে হবে।
তিনি বলেন-যদি বিএনপিতে কোনো ভালো ছেলে ঢুকে একসময় ধর্ষণকারী হিসেবে বের হয়, তাহলে সে দায় শুধুমাত্র ব্যক্তির নয় সেই দলকেও দায় নিতে হবে। নেতারা যদি চাঁদার ভাগ নেন, তাহলে খুন ও ধর্ষণের দায় থেকেও তারা মুক্ত থাকতে পারেন না।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিন ইয়ামিন। তিনি বলেন, “ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার, অথচ কোনো গণমাধ্যমে তা প্রকাশ হয়নি। মিডিয়ার ভাইরা কোথায় ছিলেন তখন? আওয়ামী লীগের আমলেও অনেক অপরাধ হয়েছে, কিন্তু তখনও মিডিয়া অনেক কিছু প্রচার করেনি। মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করাই ফ্যাসিবাদীদের প্রধান বৈশিষ্ট্য।”
তিনি আরও বলেন, “গতকাল বুয়েট, কুয়েটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিএনপির অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে জনগণ বুঝে নিয়েছে, নির্বাচনের আগেই দলটির চরিত্র কী রকম।”
প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “এখনই সময় প্রশাসনের নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার। চুপ করে থাকবেন না। এখন কাজের সময়।”
বিএনপির সাম্প্রতিক সহিংস কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ইয়ামিন বলেন, “গত ১০ মাসে বিএনপি শতাধিক খুনসহ নানা সহিংসতার ঘটনায় জড়িত। এখনই যদি তারা এমন হয়, ক্ষমতায় গেলে কী ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা সহজেই অনুমান করা যায়।”
ছাত্র অধিকার পরিষদের এই প্রতিবাদে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, শুধু সরকার নয়, বিরোধী দলগুলোকেও জনস্বার্থে দায়বদ্ধ থাকতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষই একসময় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।