বিনোদন ডেস্কঃ ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের সাথে ছবি থাকায় ৫ বার চেষ্টা করেও ভারতীয় ভিসা পাননি অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তার অভিযোগ ভিসার জন্য গেলে নুরের সাথে তার একটি ছবি দেখিয়ে এ বিষয়ে ভারতীয় ভিসা সেন্টারে দায়িত্বরতরা তাকে ভিসা না দিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানায়।
গতকাল ফেসবুক স্টাটাসে এই লাক্সতারকা লিখেছেন, তাকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর এজেন্ট বলে দাবি তুলেছে একটি পক্ষ। গতকাল নিজের ফেসবুক দেয়া এক পোস্টে বিস্ময় প্রকাশ করে আজমেরী হক বাঁধন লিখেছেন, “আবারো ‘র’ এজেন্ট হয়ে গেলাম-কী দারুণ এক যাত্রা!”
বাঁধন লিখেছেন, “২০২১ সালে আমি একজন গর্বিত ‘র’ এজেন্ট ছিলাম। তবে সেটা বিশাল ভরদ্বাজ পরিচালিত বলিউড ছবি ‘খুফিয়া’-তে। ওই সিনেমায় আমার সহশিল্পী ছিলেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী টাবু। যারা দেখেননি দেখে ফেলেন! ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে আছে।”
বাঁধন লিখেছেন, এরপরই ঘটনায় মোড় নেয়, যখন আমাকে সিনেমার প্রিমিয়ারে যেতে বাধা দেয়া। আমার ভিসা একবার দুইবার নয়, পাঁচবার ভারতীয় হাইকমিশন থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। কারণ হিসেবে তারা ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের সাথে একটি ছবি দেখায় এবং এ বিষয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানায়।
এরপর আমি আমার দেশের কিছু উচ্চপদস্থ বন্ধুর সাথে বিষয়টি শেয়ার করি এবং এক মাসের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা পাই। খবর পাই, আমার সেই সিনেমার কোনো অভিনেতা এই ভিসা বিপত্তির জন্য দায়ী। এর ফলে বলিউড ও কলকাতার একাধিক সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে বলেও জানান বাঁধন।
তিনি যোগ করেন, ‘দুইজন প্রভাবশালী সূত্র থেকে জেনেছি, সিনেমার অন্যতম একজন নায়িকাও আমার ভিসা জটিলতায় জড়িত ছিলেন। সে ব্যক্তি কে ছিল তা অনুমান করা যেতে পারে! ভিসা জটিলতার কারণে টালিউড এবং বলিউডে অনেক ভালো কাজের সুযোগ হারিয়ে ফেলি। তবে থেমে থাকিনি।’
বাঁধন আরো বলেন, ‘‘জুলাই মাসের আন্দোলনের সময় আমাকে বলা হলো সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) এজেন্ট। আমি নাকি ইউএসএআইডি থেকে টাকা নিয়ে ‘ঐতিহাসিক বিপ্লব’ চালিয়েছি। তারপর হলাম জামায়াতের এজেন্ট। কারণ, আমি তাদের এক নেতার ভিডিও আমার পেজে শেয়ার করেছিলাম।’’
সবশেষে অভিনেত্রী লিখেছেন, “আমার এক বন্ধু বলল, আমি নাকি মোসাদের হয়েও কাজ করছি। আর গতকাল রাতে আবারো ‘র’ এজেন্ট হয়ে গেলাম! বর্তমান সরকারের ঘনিষ্ঠ একজন আমার কাছে সিরিয়াসভাবে জিজ্ঞেস করে বসল, ‘টাকা খাইছো নাকি?’
আমাদের কী দারুণ একটা সমাজ! যে ব্যক্তি দেশকে ভালোবাসে না, সে ভাবে আর কেউ দেশকে ভালোবাসতে পারে না। এই লেখাটা আসলে মজা করে বলা আরাম কর, হাস, আর একটু ভাব।”