শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নুকালী গ্রামের মনিরুজ্জামান দীপুর ছেলে রেজওয়ান আহমেদ রুম্মান (২৬) মা হত্যার কলঙ্ক মাথায় নিয়ে কাশিমপুর কারাগারে বন্দি অবস্থায় রহস্যজনকভাবে মারা গেছেন। কারাবন্দি থাকাকালে অস্বাভাবিক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত এবং স্ত্রী হত্যার প্রকৃত খুনিদের শাস্তি দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রেজওয়ানের বাবা মনিরুজ্জামান দিপু।
গতকাল মঙ্গলাবার রাতে পোতাজিয়া ইউনিয়নের নুকালি গ্রামে মনিরুজ্জামান দীপুর নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমার স্ত্রী হত্যায় আমার সন্তান রেজওয়ান আহমেদ কোনভাবেই জড়িত ছিল না।
যখন আমার স্ত্রী হত্যার মামলা এন্ট্রি হয় তখন আমি হাসপাতালের বিছানায় ছিলাম এবং ২০১৯ সালে আমার সন্তানকে গুম করা হয়েছিল আমি মুচলেকা দিয়ে ১২ দিন পর নিয়ে আসি এবং মুচলেকায় শর্ত ছিল কাউকে বলতে পারবো না প্রসাশন সম্পর্কে।
আমার বিশ্বাস কোন একটি কুচক্রিমহল আমার স্ত্রীকে হত্যা করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের পর আমার মানসিক চাপের সুযোগ নিয়ে মনগড়া এজাহারে আমাকে বাদি বানিয়ে সই নিয়ে আমার একমাত্র সন্তানকে আসামি করা হয়। চক্রান্তের শিকার হয়ে আমার একমাত্র সন্তান কারাভোগ করা অবস্থায় ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছে। কারাভোগ করাবস্থায় সন্তানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর সঠিক তদন্ত করে ন্যায় বিচারের দাবি জানান দিপু।
এ ব্যাপারে গাজীপুর কাশিমপুর কারাগার-২ এর জেলার আবুল হোসেন জানিয়েছেন, রেজওয়ান আহমেদ রুম্মান এখানে আসার আগে কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকেই অসুস্থ ছিলেন এবং এখানে আসার পর তাকে দেখে মনে হতো তিনি আরো মানসিক চিন্তায় ভুগছেন। মানসিক চাপের কারণে তিনি হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যুবরণ করেছেন। তারপরও রুম্মানের একটি ময়নাতদন্ত করা হয়েছে রিপোর্ট আসলে সঠিক তথ্য জানা যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-সাবেক কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রফিকুল হায়দার পিটার, শিল্পপতি ও সাবেক ছাত্রদল নেতা কেএম আতিকুল ইসলাম আতিকসহ রেজওয়ান আহমেদ রুম্মানের পরিবারের সদস্যরা।