মফস্বল ডেস্ক : রাজধানীর আফতাবনগরে গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনে একই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধের ঘটনায় স্ত্রী, মেয়ের পর মারা গেলেন তোফাজ্জল হোসেন (৩৫)। এই ঘটনায় তার আরও দুই মেয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছে।আজ বুধবার (২১ মে) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তোফাজ্জল। এর আগে মারা যান তোফাজ্জলের স্ত্রী মানসুরা ও তার চার বছর বয়সি মেয়ে তানজিলা।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান। তিনি জানান, তোফাজ্জলের শরীরের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। সাথে শ্বাসনালীও পুড়ে গিয়েছিল। হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয়েছিল তাকে। সেখানেই ভোরে মারা গেছেন তিনি। এই ঘটনায় তোফাজ্জলের দুই মেয়ে তানিশা ৩০ শতাংশ ও মিথিলার ৬০ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে ভর্তি আছে। তাদের অবস্থা আশংকাজনক।এর আগে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আফতাবনগরে দক্ষিণ আনন্দনগর এলাকায় একটি তিন তলা বাসার নিচ তলায় এক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দগ্ধ হন তোফাজ্জল হোসেন (৩৫), তার স্ত্রী মানসুরা (২৮), তিন মেয়ে তানিশা (১১), মিথিলা (৮) ও তানজিলা (৪)।
তোফাজ্জলের মেয়ের জামাই মো. রিপন জানান, ওই বাসাটির পাশে একটি ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। সেখানে খুঁড়াখুঁড়ি কাজের সময় গ্যাস লাইনের লিকেজ হয়। সেখান থেকে গ্যাস বের হতে থাকে। ঘটনার সেদিন সকালে বিষয়টি বাড়িওয়ালাকে জানান হয়। তবে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। পরবর্তীতে সেদিন রাতে যখন বাসায় মশার কয়েল জ্বালাচ্ছিলেন, তখনই বিস্ফোরণ হয়। এতে পরিবারটির পাঁচজন দগ্ধ হন।
তোফাজ্জল পেশায় একজন দিনমজুর। চার মেয়ের জনক তিনি। ঘটনাটিতে স্বামী-স্ত্রীসহ তার ছোট তিন মেয়েই দগ্ধ হয়েছে। স্বামীর বাড়িতে থাকায় ভাগ্যক্রমে আগুনের হাত থেকে বেঁচে গেছেন বড় মেয়ে। তাদের গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাও সদরে।