কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : কালাইয়ে মাদক ব্যবসা ও সেবনে বধা দেওয়ায় মাদকাসক্ত স্বামী ও সন্তানের হাতে মারপিটে আহত পাপিয়া বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ২৪ মে শুক্রবার রাতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ২৫ মে শনিবার দিবাগত রাতে নিহতের বোন পারভিন বেগম বাদি হয়ে নিহতের স্বামী-পুত্র ও পুত্রবধূকে আসামি করে কালাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।
নিহত পাপিয়া বেগম (৪৫) কালাই পৌরসভার মূলগ্রাম মহল্লার সেলিম হোসেনের স্ত্রী। এ ঘটনার পর সেলিম হোসেন মাদকসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। স্ত্রী হত্যা মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানান কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াসিম আল-বারী।
মহল্লাবাসী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, নিহত পাপিয়া বেগমের স্বামী সেলিম হোসেন ও ছেলে রকসি মিলে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবন করতেন। পাপিয়া তার স্বামী ও ছেলেকে মাদক ব্যবসা ও সেবনে প্রতিনিয়ত বাধা দিতেন।
তাই পাপিয়া বেগমকে স্বামী ও ছেলে মিলে প্রায়ই নির্যাতন করতেন। কিছুদিন আগে পাপিয়া বেগমকে মারধর করে গোয়ালঘরে আটকেও রেখেছিলেন। এসব কাজে সেলিম হোসেনকে তার পুত্র ও পুত্রবধূ সহায়তা করতো। মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় গত ১৩ মে পাপিয়া বেগমকে তার স্বামী, পুত্র ও পুত্রবধূ মিলে বেধড়ক মারপিট করেন। এতে পাপিয়া বেগম গুরুতর আহত হন।
ওইদিনই স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। পরে চিকিৎসকরা তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করলে শুক্রবার রাতে পাপিয়া বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। ওদের তিনজনের নির্যাতনেই আমার বোনের মৃত্যু হয়েছে।
কালাই থানার (ওসি) ওয়াসিম আল-বারী বলেন, নিহত পাপিয়ার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে পাপিয়াকে তার স্বামী, পুত্র ও পুত্রবধূ মারধর করেছিলেন। এঘটনায় নিহতের বোন বাদি হয়ে শনিবার রাতে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। গত ২০ মে হত্যা মামলার আসামি পাপিয়ার স্বামী সেলিম হোসেনকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।