স্টাফ রিপোর্টার : ৫৭ বছর বয়সে এসএসসি পাস করে চমক দেখালেন বগুড়া সদর ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত পুলিশ সদস্য আব্দুস সামাদ। স্ত্রীর অনুপ্রেরণায় চাকরি থেকে অবসর নেয়ার ২ বছর ১০ মাস আগে তিনি এসএসসি পাশ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিলেন। অবসরের পর তিনি হোমিও চিকিৎসক হতে চান।
এদিকে, তাকে নিয়ে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার (পদোন্নতি প্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ফেসবুকে স্ট্যাটাসে লিখেছেন, গতকাল রোববার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লক্ষ ৮১ হাজার ১২৯ জন শিক্ষার্থী।
সারাদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিউজফিড ভরে গেছে শিক্ষার্থীদের ফলাফলের আনন্দের সংবাদে। কিন্তু সকল আনন্দ ছাপিয়ে জেলা পুলিশ বগুড়া'র জন্য অনন্য আনন্দের উৎস ৫৭ বছর বয়সে কারিগরি শাখা থেকে জিপিএ ৪.২৫ পেয়ে উত্তীর্ণ বগুড়ার ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত কনস্টেবল আব্দুস সামাদ। ১৯৮৭ সালে অষ্টম শ্রেণি পাস করে বাংলাদেশ পুলিশে তার যোগদান।
অবসর জীবন শুরু হতে বাকি মাত্র ২ বছর ১০ মাস। ৩৭ বছরের সুদীর্ঘ চাকরি জীবনে কর্মস্থলের বাস্তবতা, শত অপ্রাপ্তি আর জীবনের নিদারুণ দু:খগাঁথা কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায়, দৃঢ়প্রতিজ্ঞা, অদম্য ইচ্ছাশক্তি, নিষ্ঠার বিনিময়ে হারিয়ে গেলো এক নিমিষেই। জেলা পুলিশ বগুড়ার পক্ষ থেকে ৫৭ বছর বয়সে এসএসসি বিজয়ী জীবনযুদ্ধে পিছিয়ে পড়াদের অনন্য অনুপ্রেরণা ট্রাফিক কনস্টেবল আব্দুস সামাদকে আন্তরিক অভিনন্দন।
জানা যায়, তিনি এ বছর নাটোর জেলার মহর কয়া নতুনপাড়া কারিগরি ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪ দশমিক ২৫ পেয়েছেন। এই বয়সে তাঁর এমন সফলতায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
আব্দুস সামাদ ১৯৬৮ সালে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আশরাফপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পরে ১৯৮৭ সালে ৮ম শ্রেণি পাসে বাংলাদেশ পুলিশে চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে যোগদান করেন। চাকরিসূত্রে তিনি বগুড়ার শেরপুর, সদর ও নন্দীগ্রাম ডিএসবি, সদর কোর্ট এবং সর্বশেষ বগুড়া ট্রাফিকে কর্মরত আছেন। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক।
ছেলে ও মেয়েদের করেছেন উচ্চ শিক্ষিত। তাঁর এখন চাকরির বয়স আছে ২ বছর ১০ মাস। চাকরি শেষে হোমিও চিকিৎসায় যুক্ত হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। কিন্তু সেই কোর্সে ভর্তি হতে তার এসএসসি পাশের সার্টিফিকেট প্রয়োজন। সিদ্ধান্ত নেন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
স্ত্রী তাকে অনুপ্রেরণা দেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২২ সালে তিনি নাটোর মহর কয়া নতুনপাড়া কারিগরি ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। সেই ইন্সটিটিউট থেকেই এ বছর তিনি এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং জিপিএ -৪ দশমিক ২৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
এসএসপি পাশ করা ট্রাফিক পুলিশ সদস্য আব্দুস সামাদ বলেন, পারিবারিক অস্বচ্ছলতায় ৮ম শ্রেণি পাস করেই পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেছিলাম। আমার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার উপর ছোট থেকেই দুর্বলতা ছিল।
অবসরে যাওয়ার পর যেন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা করে সবার সেবা করতে পারি তাই চাকরির পাশাপাশি নিয়মিত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিয়ে পড়াশোনা করতাম। কিন্তু হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার কোর্সে ভর্তি হতে এসএসসি পাসের সার্টিফিকেট লাগে। তাই ২০২২ সালে সিদ্ধান্ত নেই এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার। এখন আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ডিএইচএমএস কোর্সে হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার।
তিনি আরও বলেন, আমার এই বয়সে আমার পরিবার ও ডিপার্টমেন্ট অনেক সহযোগিতা করেছে। আমার মা বেঁচে আছেন। তাঁর বয়স একশ’। যখন আমি পাস করেছি তখন আমার মা আমার এই সফলতার কথা শুনে অনেক খুশী হয়েছেন। এই যাত্রা শুরু করার সময় অনেকেই অনেক কটু কথা বলেছেন। কিন্তু পরিবার ও ডিপার্টমেন্ট এর উৎসাহে আমি পিছপা হইনি।