জামালপুরে হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং একজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মৃত্যদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মৃত আজিজুর রহমানের ছেলে মো. মোতালেব হোসেন ও মৃত আইন উদ্দিন ফকিরের ছেলে মো. রশিদ জামাল। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আইন উদ্দিন ফকিরের ছেলে আব্দুল লতিফ, সুরুজ মিয়া ও আব্দুল হামেদ। অন্যদিকে একই উপজেলার আসাদ জামালের ছেলে খোরশেদ আলমকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. দিদারুল ইসলাম দিদার জানান, ২০০৭ সালের ২২ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মোতালেব হোসেন, রশিদ জামাল, আব্দুল লতিফ, সুরুজ মিয়া, আব্দুল হামেদসহ আরও ৩-৪ জন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সবুজপুর এলাকায় আক্তার হোসেন আবেদীনের বাসায় গিয়ে তার খোঁজ করেন। তিনি বাসায় না থাকায় তার স্ত্রীকে বলে, আবেদীন বাসায় আসলে তাদের সঙ্গে দেখা করতে গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে।
তিনি জানান, পরে রাত ৮টার দিকে আবেদীন বাসায় আসার পর তার স্ত্রী তাকে বিষয়টি বলে। রাতের খাওয়া-দাওয়া শেষ করে তাদের সঙ্গে দেখা করতে বাসা থেকে বের হন আবেদীন। ওই এলাকার সবুজপুর দাখিল মাদ্রাসার মাঠের পাশে মোতালেব-রশিদদের সঙ্গে আবেদীনের দেখা হয়। সেই সময় মোতালেবের নির্দেশে অন্যরা ধারালো চাকু দিয়ে আবেদীনের পেটের বাম পাশে আঘাত করে পিঠ পর্যন্ত ছিদ্র করে ফেলে। পরে আবেদীনের চিৎকার শুনে তার স্ত্রী ছালেহা বেগম ও মেয়ে কনিকা বেগমসহ কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মো. দিদারুল ইসলাম দিদার আরও জানান, ঘটনার পরদিন আবেদীনের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত আজ মোতালেব হোসেন, রশিদ জামালকে মৃত্যুদণ্ড, আব্দুল লতিফ, সুরুজ মিয়া ও আব্দুল হামেদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং খোরশেদ আলমকে খালাস দেন।