স্পোর্টস ডেস্ক : ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে প্রথম ওয়ান ডে ম্যাচে ২৯৪ রান করতে পারলেও সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হয়নি। টেনেটুনে ২২৭ রান করতে পেরেছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাফ সেঞ্চুরিতে। বাংলাদেশ ম্যাচ হেরেছে ৭ উইকেটে ৭৯ বল বাকি থাকতে। এই খারাপ খেলার কোনো ব্যাখ্যা নেই মিরাজের কাছে। বরং পুরোনো কথার পুনরাবৃত্তি করছেন তিনি। আসলে দলের ব্যর্থতায় ইতিবাচক কথা বলার সুযোগও কম। এই বাস্তবতা মেনে নিয়েই আজ সিরিজের শেষ ম্যাচ খেলতে নামবেন মিরাজরা। স্বাভাবিকভাবেই লক্ষ্য থাকবে হোয়াইটওয়াশ এড়ানো।
সেইন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কের ব্যাটিংবান্ধব কন্ডিশনেও ব্যাটিংটা ভালো করতে পারছে না বাংলাদেশ। টপঅর্ডারে সৌম্য সরকার-লিটন কুমার দাসের ব্যাটে রান নেই। তানজিদ হাসান তামিম একই ভুলে টানা দুই ম্যাচে আউট। সুযোগ থাকার পরও হাফ সেঞ্চুরিকে সেঞ্চুরিতে নিতে পারছেন না কেউ। হাফ সেঞ্চুরি করতেও ডট বলের মচ্ছব করছেন ব্যাটাররা। ফলে ম্যাচ জেতানোর মতো পুঁজি পাচ্ছেন না বোলাররা। পেস বোলিং নির্ভর হয়ে পড়ায় দলের দুর্বলতা প্রকাশ পাচ্ছে। ভালো মানের একজন বাঁহাতি স্পিনার নেই দলে। টি২০তে কিছুটা কার্যকর হলেও নাসুম আহমেদের ওয়ানডে বোলিং আন্তর্জাতিক মানের কিনা এ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের বোলিং বিদেশের মাটিতে খুব বেশি কার্যকর না। লেগ স্পিনার রিশাদ আহমেদ টি২০ বিশ্বকাপে বাজিমাত করলেও ওয়ানডেতে সাদামাটা একজন বোলার।
এতে করে সমন্বিত বোলিং হচ্ছে না ৫০ ওভারের ক্রিকেটে। নিজেদের দুর্বলতা আড়াল করতেই হয়তো বোলিং নিয়ে বেশি কিছু বলছেন না অধিনায়ক মিরাজ, ‘প্রথম ১০ ওভারে আমরা দারুণ বোলিং করেছি, বিশেষ করে আমাদের সেরা বোলার রানা। এই উইকেটে এই স্কোর ডিফেন্ড করা বোলারদের জন্য খুব কঠিন।’ বাংলাদেশের ব্যাটিং দুর্বলতার রোগ কিছুতেই সারছে না। দেশি-বিদেশি কোচ কাজ করেও তানজিদ তামিমদের বড় ব্যাটিং খেলার মানসিকতায় নিতে পারেননি। প্রথম ম্যাচে ব্যাটারদের প্রশংসা করা মিরাজ গতকাল সমালোচনায় লিপ্ত হন, ‘মাঝের ওভারগুলোয় আমরা ভালো ব্যাটিং করিনি। কোনো জুটি হয়নি, একের পর এক উইকেট পড়েছে। মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব (তানজিম) ভালো খেলেছে, তবে ভুলটা আমাদেরই। চার উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও ভেবেছিলাম ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। আমাদের স্কোর যথেষ্ট ছিল না, ৩০০ রানের বেশি করা দরকার ছিল।’