Logo
ট্রেন্ডিং: ময়মনসিংহ মহানগর জাপার সভাপতি জাহাঙ্গীর গ্রেফতার বগুড়ার ধুনটে নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হোন্ডা-গুণ্ডার রাজনীতি আর চলবে না: হাসনাত আব্দুল্লাহ কক্সবাজারে ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ দুই নারী আটক

বাঁশের সাঁকো ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন চরম ভোগান্তিতে ১০ গ্রামের মানুষ

BN DESK
05 September 2026, 03:34 AM পড়তে ১ মিনিট

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের গঙ্গাচড়ার মর্ণেয়া ইউনিয়নের কাগজিবাড়ী এলাকায় মানাস নদের ওপর একটি পাকা সেতুর দাবি স্থানীয়দের অর্ধশত বছরের। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও স্থায়ী কোনো সেতু নির্মাণ হয়নি। সম্প্রতি টানা বৃষ্টি ও কালবৈশাখীতে বাঁশের সাঁকোটিও ভেঙে যাওয়ায় এখন পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে নিজেদের অর্থ ও শ্রমে প্রতিবছর বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করতে হতো। তবে এবার কয়েকদিনের ঝড়ের তাণ্ডবে সেই সাঁকোটিও ভেঙে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।

জানা যায়, ২০১১ সালে উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের কাবিটা কর্মসূচির আওতায় মানাস নদের ওপর একটি ছোট সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে টানা বৃষ্টি ও বন্যার প্রবল স্রোতে সেটিও ভেঙে যায়। এরপর আবারও বাঁশের সাঁকোই হয়ে উঠেছিল একমাত্র ভরসা। কিন্তু সম্প্রতি সেটিও নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই সাঁকো দিয়ে বড় রুপাইসহ রংপুর সিটি করপোরেশনের পূর্ব বক্সা, মধ্য বক্সা, হরিরাম মাল বক্সা, চওড়ারহাট ও বেনুরঘাটসহ প্রায় ১০ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ চলাচল করতেন। পাশাপাশি দুইটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করত। স্থানীয়রা জানান, সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় এখন কৃষিপণ্য ও জরুরি সেবা পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আগে যেখানে ৩০ মিটার পথ পার হতে পারতেন, এখন বিকল্প পথে ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে।

মর্ণেয়া কাগজিবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, প্রতিবছর নিজেদের টাকায় বাঁশের সাঁকো বানাই। কিন্তু একটু ঝড়-বৃষ্টি হলেই সেটা ভেঙে যায়। এখন আমাদের চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। রংপুর সিটি করপোরেশনর গুলালবুদাই এলাকার গৃহবধূ রহিমা বেগম বলেন, রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে খুব কষ্ট হয়। আগে সাঁকো দিয়ে দ্রুত যাওয়া যেত, এখন অনেক ঘুরে যেতে হচ্ছে।

চওড়াহাটের শিক্ষার্থী সোহেল রানা বলে, স্কুলে যেতে ভয় লাগে। সাঁকো ভেঙে যাওয়ার পর কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে, এতে সময় ও কষ্ট দুটোই বাড়ছে। পূর্ব বক্সার কৃষক মো. আলী হোসেন বলেন, ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে পারছি না। যোগাযোগ বন্ধ থাকায় কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

মর্ণেয়া ইউনিয়নের প্রশাসক ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সেতু না থাকায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে রয়েছে। সম্প্রতি সাঁকো ভেঙে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. জেসমিন আক্তার বলেন, স্থানটি ইউনিয়ন ও রংপুর সিটি করপোরেশন সংলগ্ন হওয়ায় কিছু প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে। তবে সরেজমিনে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলাকা: রংপুর গংগাচড়া
পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
রংপুর

বাঁশের সাঁকো ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন চরম ভোগান্তিতে ১০ গ্রামের মানুষ

B
BN DESK | 26 May 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার