লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় একটি মোটরসাইকেল সার্ভিস সেন্টারের মালিককে আটকে রেখে গলায় ছুরি ধরে চাঁদা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে গত শনিবার রাতে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
জানা যায়, দু’দিন আগে ঘটনার শিকার ভুক্তভোগী গৌরাঙ্গ কুমার রায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে সেটি তদন্ত শেষে রাতে পুলিশ এ মামলাটি দায়ের করেন। তবে মামলায় এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি। গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টায় লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা সাপ্টিবাড়ি বাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগী গৌরাঙ্গ কুমার রায় বলেন, তিনি ‘ভাই-ভাই মোটরসাইকেল সার্ভিস সেন্টার’ নামে একটি গ্যারেজ চালান দীর্ঘদিন ধরে। শাহানশাহ সরকার সাজু নামের এক ব্যক্তি প্রায়ই তার দোকানে এসে চাঁদা দাবি করতেন এবং হুমকি দিতেন। চাঁদা না দিলে ব্যবসা করতে দেবেন না বলেও হুমকি দিয়ে আসছিলেন তিনি। ঘটনার রাতে দোকান থেকে বের হলে সাজু সাপ্টিবাড়ি বাজারের একটি করাতকলের ভেতরে ডেকে নেয়।
সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত আরও ৩/৪ জন অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিরা মিলে ১০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাজু গলায় ধারালো ছুরি ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। তবে পালানোর সময় শাহানশাহ তার ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন ১৫০ সিসি পালসার মোটরসাইকেল ও একটি শপিং ব্যাগ ফেলে যান।
পরবর্তীতে স্থানীয় ইউপি সদস্য আ. খালেক মিয়া ও গ্রাম পুলিশ আজিজুল ইসলামের মাধ্যমে মোটরসাইকেলটি ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে রাখা হয়। ঘটনার পরপরই বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে এবং থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. শাহানশাহ সরকার সাজু চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গৌরাঙ্গ তার পরিচিত ও তার সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ফরহাদ নামে এক প্রতিবেশী ব্যবসায়ীর সাথে গৌরাঙ্গের ব্যবসায়িক বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধকে কাজে লাগিয়ে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় ও হয়রানি করার চেষ্টা চলছে।
গতকাল রোববার এবিষয়ে আদিতমারী থানার ওসি আলী আকবর বলেন, গৌরাঙ্গের দায়ের করা অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।