আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফিলিস্তিনের গাজায় আটক থাকা জিম্মিদের হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবার চারজনের মরদেহ ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরত দিয়েছে হামাস। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) মধ্যরাতে (স্থানীয় সময়) রেডক্রসের মাধ্যমে চার জিম্মির কফিন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়, হামাস ২৮ জন নিহত জিম্মির মরদেহ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত গাজায় ত্রাণ সরবরাহ সীমিত করা হবে। গত সোমবার ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠীটি ২০ জন জীবিত জিম্মি ও চার জিম্মির মরদেহ ফেরত দিয়েছে।
রেড ক্রস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলে আটক ৪৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ মঙ্গলবার গাজায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার হামাস কর্তৃক ফেরত দেয়া প্রথম চারজন নিহত জিম্মিকে ইসরায়েল শনাক্ত করেছে, যাদের মধ্যে ড্যানিয়েল পেরেটজ (২২), ইয়োসি শারাবি (৫৩), গাই ইলুজ (২৬) এবং বিপিন জোশি (২৩) ও একজন নেপালি নাগরিক।
গাজায় চলা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘শান্তি পরিকল্পনা’র প্রথম ধাপ কার্যকর করার বিষয়টি ইসরায়েল ও হামাস-দুই পক্ষ মেনে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত সোমবার দুপুরের মধ্যে গাজায় থাকা অবশিষ্ট ৪৮ জন (জীবিত ও মৃত) ইসরায়েলি জিম্মির সবাইকে হস্তান্তর করার কথা ছিল।
ইসরায়েলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামাসের পক্ষ থেকে জিম্মিদের মরদেহ ফেরত দিতে (নির্ধারিত সময়ের মধ্যে) ব্যর্থ হওয়ায় তারা উপত্যকাটিতে মানবিক সহায়তা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই সঙ্গে মিসরের সঙ্গে রাফা সীমান্ত ক্রসিং খুলে দেয়ার পরিকল্পনাও পেছানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অন্যদিকে হামাস বলছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় জিম্মিদের মরদেহ খুঁজে পেতে তাদের অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। এরই মধ্যে জীবিত সব জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। তবে এখনও হস্তান্তর না হওয়া ২০ জিম্মির দেহাবশেষ নিয়ে হামাস ও ইসরায়েলি সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। সূত্র : বিবিসি