চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে, প্রয়োজনে অক্টোবরে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব তথ্য জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসিরউদ্দিন।
সিইসি জানান, নির্বাচন আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি কমিশনের রয়েছে। তবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়টিকে বিশেষ বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। নভেম্বর মাসে যাতে বার্ষিক পরীক্ষা না নেওয়া হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাবে কমিশন। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ডিসেম্বর মাস থেকেই পুরোদমে ভোটগ্রহণ শুরু করা সম্ভব হবে।
নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করার জটিলতা তুলে ধরে সিইসি বলেন, সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি সবসময় এককভাবে ইসির নিয়ন্ত্রণে থাকে না। আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠেয় মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার কথাও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন জাতীয় সূচি ও পরীক্ষার সময়সূচি সমন্বয় করেই নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করতে হবে।
এর আগে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের প্রায় ৪০ মিনিটব্যাপী এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য রূপ দিতে রাষ্ট্রপতির কাছে সার্বিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে এবং রাষ্ট্রপতি কমিশনকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পাশাপাশি জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের প্রস্তুতিও প্রায় চূড়ান্ত বলে জানান সিইসি। তিনি উল্লেখ করেন, প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম ও সামগ্রী সংগ্রহের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটারদের জন্য ডাকযোগে ব্যালট (পোস্টাল ব্যালট) প্রেরণের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে খুব দ্রুতই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে নির্বাচন কমিশন