সারা দেশে সংক্রামক রোগ হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও পাঁচ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ৩১ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন কিংবা তাঁদের মধ্যে রোগের প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম-সংক্রান্ত বুলেটিন ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে এসেছে। অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তির হিসাব অনুযায়ী, নতুন করে মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে ঢাকা বিভাগে তিনজন এবং সিলেট বিভাগে দুই শিশুর মৃত্যুর তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া সামগ্রিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ মাসে দেশজুড়ে হাম ও এর উপসর্গে মোট প্রাণ হারিয়েছেন ৯৫৫ জন। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৯৯ এবং বাকি ৮৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে।
অধিদপ্তর আরও জানায়, গত এক দিনে নতুন করে ৭৫ জনের শরীরে গবেষণাগার পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে আরও ৯৫৬ জনের শরীরে রোগটির প্রাথমিক লক্ষণ বা উপসর্গ ধরা পড়েছে। এ নিয়ে গত সাড়ে পাঁচ মাসে সারা দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৭২৬ জনে এবং উপসর্গবাহী রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৯২ জনে।
আক্রান্তদের বড় অংশই চিকিৎসা নিতে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে শরণাপন্ন হচ্ছেন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সর্বমোট ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সেবা নিয়েছেন। এর মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৯ জন। বাকি রোগীরা বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত দ্রুত সংক্রমণশীল ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের ক্ষেত্রে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে পুষ্টিহীনতায় ভোগা শিশুদের জন্য এই রোগ প্রাণঘাতী রূপ নেয়। সংক্রমণ রোধে নির্ধারিত সময়ে শিশুদের নিয়মিত প্রতিষেধক টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রাখা এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।