দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ৯৯৪ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮৫ জনে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম (স্বাস্থ্য জরুরি সেবা নিয়ন্ত্রণকক্ষ) থেকে পাঠানো নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমানে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২ হাজার ৮০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সর্বমোট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৯ হাজার ৯২৩ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ২৭ হাজার ৭৫৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩ জনই পুরুষ এবং তাদের বয়স ৩৬ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পুরুষের তুলনায় নারীদের মৃত্যুর হার তুলনামূলক বেশি। মোট ৮৫ জন মৃতের মধ্যে নারী রয়েছেন ৪৮ জন, যা মোট মৃত্যুর ৫৭ দশমিক ১ শতাংশ। অপরদিকে পুরুষ মৃতের সংখ্যা ৩৬ জন বা ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ। উল্লেখ্য, পূর্বে রেকর্ডকৃত একজনের মৃত্যুর তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে তালিকায় সংশোধন আনা হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে রাজধানী ঢাকা এখনও সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। ডেঙ্গুতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার হাসপাতালগুলোতে সর্বোচ্চ ২৯ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) হাসপাতালগুলোতে ১১ জন মারা গেছেন। এছাড়া সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্যান্য এলাকায় মারা গেছেন ২ জন।
ঢাকার বাইরে খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে এখন পর্যন্ত ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে ৮ জন করে, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪ জন এবং রংপুর ও সিলেট বিভাগে ১ জন করে রোগী মারা গেছেন।
চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ডেঙ্গুর যেকোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে। একই সঙ্গে এডিস মশার বিস্তার রোধে বাসাবাড়ির আঙিনা ও আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি নিয়মিত অপসারণের তাগিদ দিয়েছেন তারা।