দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ৩৩৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক তথ্য বিবরণী (সংবাদ বিজ্ঞপ্তি) থেকে এ তথ্য জানা গেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের নিয়ে এ বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ১৯৫ জনে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট ৩৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে বড় অংশই মারা গেছেন চলতি জুলাই মাসে। জুলাইয়ের এই কয়েক দিনেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা বছরের মোট মৃত্যুর অর্ধেকেরও বেশি। বর্ষা মৌসুমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গুর এই ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ঢাকার উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ৪১ জন এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে এসেছেন ৭৬ জন। দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে ঢাকা জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ১৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
ঢাকার বাইরেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে বরিশাল বিভাগে, সেখানে নতুন করে ৭৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৬ জন, খুলনা বিভাগে ৩৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১ জন, রংপুর বিভাগে ১০ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ৬ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৩৩৯ জন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১১ হাজার ১৯৫ জনের মধ্যে ১০ হাজার ১২৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা সম্ভব হলে মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গুর সরকারি হিসাব রাখা শুরু হয়। এর মধ্যে ২০২৩ সাল ছিল ডেঙ্গুর ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বছর। ওই বছর রেকর্ড ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং নজিরবিহীনভাবে ১ হাজার ৭০৫ জন মানুষ প্রাণ হারান। গত বছরও ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশ উদ্বেগজনক ছিল, যেখানে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ২ হাজার।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ফুলের টব, ডাবের খোসা বা যেকোনো পাত্রে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা সবচেয়ে জরুরি। ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে অবিলম্বে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর এবং রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহারের জন্য দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।