নেপাল ও চীনের স্বায়ত্তশাসিত তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে আকস্মিক ও প্রলয়ঙ্করী বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩০ জনে। পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা পানির তোড়ে তছনছ হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ জনপদ। প্রকৃতির এই ধ্বংসলীলায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় এক হাজার মানুষ। তাদের উদ্ধারে সীমান্তজুড়ে চলছে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান।
স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৭০০ জন বিদেশি পর্যটক রয়েছেন। হিমালয় অঞ্চলের নয়নাভিরাম রূপ দেখতে আসা অসংখ্য পর্যটক, পেশাদার পর্বতারোহী এবং তীর্থযাত্রীরা একটি ব্যস্ত মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত করছিলেন। হড়কা বানের তীব্র স্রোতে মুহূর্তের মধ্যে পাহাড়ি ওই প্রধান সড়কের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে শত শত যানবাহন ও মানুষ পানির তোড়ে ভেসে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
দুর্গত এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন শহর ও বিচ্ছিন্ন উপত্যকাগুলোতে পৌঁছাতে একাধিক উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। আকাশপথে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া হাজার হাজার মানুষের জন্য জরুরি তাঁবু, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ফেলা হচ্ছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া উদ্ধারকাজকে দফায় দফায় ব্যাহত করছে।
বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদদের প্রাথমিক ধারণা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পর্বতের কোনো বিশালাকার হিমবাহ ধসে পড়ার (গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট বা হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণ) ফলেই এই অস্বাভাবিক ও বিধ্বংসী বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই বিপুল পরিমাণ পানি ও কাদামাটির প্রবল স্রোত ওপর থেকে নিম্নাঞ্চলে আছড়ে পড়ায় স্থানীয়রা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাননি।
চারপাশের এই চরম ধ্বংসযজ্ঞ ও স্বজন হারানোর হাহাকারের মধ্যেও বেশ কিছু অভাবনীয় ও অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচ থেকে বেশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। সময় যত গড়াচ্ছে নিখোঁজদের জীবিত পাওয়ার আশা ততই ক্ষীণ হয়ে আসছে, তবুও উদ্ধারকারী দলগুলো তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।