অধিকৃত পশ্চিম তীরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা চিরতরে নস্যাৎ করতে নতুন করে বিতর্কিত বসতি নির্মাণ পরিকল্পনা শুরু করেছে ইসরায়েল। দেশটির আবাসন মন্ত্রণালয় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ই-১’ এলাকায় ১ হাজার ২৩৪টি নতুন অবৈধ বসতি নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করেছে। তেল আবিবের এই আগ্রাসী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই বিতর্কিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে দখলদার ইসরায়েলের ওপর সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা আরোপের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব জেরুজালেমের পূর্বে অবস্থিত প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ‘ই-১’ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মোট ৩ হাজার ৪০০টি ইহুদি বসতি নির্মাণের পাঁয়তারা করছে ইসরায়েল। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অধিকৃত পশ্চিম তীর ভৌগোলিকভাবে উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুই ভাগে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে পশ্চিম তীর থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে পূর্ব জেরুজালেম, যাকে ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে একটি কার্যকর ও অবিচ্ছিন্ন স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়বে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আগেই সতর্ক করেছিলেন, এই পরিকল্পনা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত।
ইসরায়েলের এই একতরফা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্বেও নজিরবিহীন অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও নরওয়ে অবিলম্বে এই পরিকল্পনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। প্রকল্পটিকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দরপত্রে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে কড়া সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় লন্ডনে নিযুক্ত ইসরায়েলের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাণিজ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ইসরায়েলের ওপর সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা জারির প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করছে।
এদিকে মুসলিম বিশ্বের পক্ষ থেকেও এসেছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। সৌদি আরব, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, কাতার ও মিশর একযোগে ইসরায়েলের এই অবৈধ পদক্ষেপের কঠোর নিন্দা জানিয়ে তা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য ও ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর আমন্ত্রণে ফ্রান্স সফরে গেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, ইসরায়েল যদি বিশ্বমতের তোয়াক্কা না করে এই নির্মাণকাজ এগিয়ে নেয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ করবে।