তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক হিমধস এবং নেপালে স্মরণকালের ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে এবার ভারতের বিহার রাজ্যে তীব্র বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ পানির তোড়ে বিহারের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রাজ্যজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
উজান থেকে ধেয়ে আসা অস্বাভাবিক এই প্লাবনে নেপালের তিনটি জেলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির রসুয়া জেলাসহ বিভিন্ন স্থানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তিব্বত সীমান্ত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী হয়ে প্রবল বেগে গণ্ডক নদী দিয়ে বিহারে প্রবেশ করছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছেন এবং সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় রাজ্যের সব সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। নদীতীরবর্তী বাঁধগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিতে দিন ও রাতে বিশেষ টহল জোরদার করা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, যেকোনো মুহূর্তে পাহাড়ি ঢাল বেয়ে একসঙ্গে প্রায় সাড়ে তিন লাখ কিউসেক পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে পারে। এতে করে গণ্ডক নদীর অববাহিকায় থাকা পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, মোজাফফরপুর, বৈশালী, গোপালগঞ্জ ও সারণ জেলা মারাত্মকভাবে প্লাবিত হতে পারে। সম্ভাব্য দুর্যোগ এড়াতে নিম্নাঞ্চল ও নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে।
পানির তীব্র চাপ নিয়ন্ত্রণে উত্তর বিহারের বাল্মীকিনগরে অবস্থিত গণ্ডক ব্যারাজের সবকটি (৩৬টি) জলকপাট ধাপে ধাপে খুলে দেওয়া হয়েছে। বিহার ও উত্তর প্রদেশের প্রকৌশলীরা যৌথভাবে ব্যারাজের স্থায়িত্ব ও জলপ্রবাহের গতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। একইসঙ্গে সম্ভাব্য মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয় রোধে বাল্মীকিনগরের বাল্মীকি ব্যাঘ্র সংরক্ষণাগারের বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।
পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করায় বিহারের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে অতিরিক্ত উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।