"ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলিম পরিচয়ে বসবাসকারীগণের ওপর ও বিভিন্ন ইস্যুতে দুর্বল জনসাধারণের ওপর সবলদের নির্যাতন বন্ধের এবং ধর্মের নামে সহিংসতা ও বৈষম্যমুক্ত বিশ্ব গঠনে ইসলাম প্রতিষ্ঠার" লক্ষ্যে 'ইসলামী সমাজ'-এর উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
মানবতার সংকট ও আযাব-গজব প্রসঙ্গে সংগঠনের রংপুর বিভাগের সহকারী দায়িত্বশীল জনাব মো. হুমায়ূন কবির-এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী সমাজের আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় ইসলামের পরিবর্তে মানব রচিত ব্যবস্থা মেনে চলার কারণেই আজ বিশ্ববাসী মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ভয়াবহ আযাব ও গজবের সম্মুখীন হচ্ছে। ক্ষমতা ও আধিপত্য বিস্তারের লোভ এবং সংকীর্ণ দলীয় ও জাতীয়তাবাদী চিন্তার ফলেই মানুষে মানুষে সংঘাত বাড়ছে। বিশ্ববাসী মানবতার কল্যাণ ও মুক্তির পথ ভুলে যাওয়ার কারণে দুনিয়ার জীবনে অশান্তির আগুন জ্বলছে এবং তাদের আখিরাতের জীবনও ধ্বংস হচ্ছে। এর পরিণতিতেই বিশ্বজুড়ে দুর্বল ও মুসলিম পরিচয়ে বসবাসকারী মানুষের ওপর ক্ষমতাবানদের নির্মম নির্যাতন চলছে।
বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের চিত্র আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ২০২৬ সালের মে মাসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপির জয়ের পরপরই সেখানে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। তাদের মসজিদ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা হচ্ছে এবং বুলডোজার দিয়ে বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া চীনের উইঘুর, ফিলিস্তিন ও মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশেও মুসলিমদের ওপর অমানবিক নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে।
সংকট সমাধানে ইসলামের রূপরেখা ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান সকল প্রকার নির্যাতনের অবসান ঘটাতে বিশ্ববাসীকে মহাসত্যের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ইসলামী সমাজের আমীর। তিনি স্পষ্ট করেন, "সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরঙ্কুশ শাসন-কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর, মানুষের নয়"—এই মহাসত্যের ওপর ভিত্তি করেই কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে এমন এক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করতে হবে, যেখানে সকল ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালনের সুযোগ পাবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'ইসলাম' প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত প্রচেষ্টাই বর্তমান সময়ের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঈমানী, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। ঈমানদারদের সৎকর্ম ও প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আল্লাহর রহমতে বিশ্বে ইসলামের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠিত হবে এবং উগ্রপন্থা ও বৈষম্যমুক্ত একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে উঠবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ‘ইসলামী সমাজ’ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বক্তব্যের শেষে তিনি দলমত নির্বিশেষে সকলকে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় 'ইসলামী সমাজ'-এ শামিল হওয়ার আন্তরিক আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— মুহাম্মাদ ইউসুফ আলী মোল্লা, মুহাম্মাদ ইয়াছিন এবং মো. নুরুদ্দিন প্রমুখ।
মানববন্ধন শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি পল্টন মোড় হয়ে বিজয়নগর-কালভার্ট রোড, ফকিরাপুল মোড় ও দৈনিক বাংলা মোড় প্রদক্ষিণ করে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এসে শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়।