ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আদর্শিক অভিভাবক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)। একইসঙ্গে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের মার্কিন ভিসা তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল এবং ভবিষ্যতে দেশটিতে তার প্রবেশের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির কঠোর সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
স্থানীয় সময় বুধবার ওয়াশিংটন থেকে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে এই আহ্বান জানায় মার্কিন এই দ্বিপক্ষীয় স্বাধীন কমিশন। শতবর্ষ পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তার এই সফরের মধ্যেই মার্কিন কমিশনের পক্ষ থেকে এমন কড়া অবস্থান সামনে এলো।
ইউএসসিআইআরএফ-এর প্রধান (চেয়ার) আসিফ মাহমুদ এক বিবৃতিতে বলেন, ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিবেশ প্রতিনিয়ত মারাত্মক অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। সেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে নিয়মিত হিংসাত্মক ঘটনা ও উসকানি ছড়ানো হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত আরএসএস সদস্য এবং ভারতের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর সুনির্দিষ্ট মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত। যার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে মোহন ভাগবতকে দেওয়া ভিসা বাতিল এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে তার প্রবেশ অযোগ্য ঘোষণা করা প্রয়োজন।
কমিশনের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ তোলা হয়, ভারতে বিজেপি সরকার আরএসএসের ‘হিন্দুত্ববাদী’ মতাদর্শের সঙ্গে মিল রেখে এমন সব বিতর্কিত নীতি বাস্তবায়ন করছে, যা মুসলিম, খ্রিস্টান, দলিত এবং শিখ সম্প্রদায়ের জন্য চরম বৈষম্য তৈরি করছে। বিশেষ করে ধর্মান্তরবিরোধী আইন এবং জাতীয় নাগরিকত্ব আইনের অপপ্রয়োগের ফলে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও উচ্ছেদের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। কমিশনের সহপ্রধান সিএইচ হিল উল্লেখ করেন, মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় এখনই জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর দৌরাত্ম্য আরও বাড়বে।
তবে মার্কিন কমিশনের এই কঠোর বক্তব্যকে বরাবরের মতোই ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় কমিশনটিকে একটি ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ সংস্থা হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, তাদের এই ধরনের একতরফা বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়ার কোনো কারণ নেই।
উল্লেখ্য, মার্কিন কমিশনের এই সুপারিশ সরাসরি বাধ্যতামূলক কোনো আদেশ না হলেও এটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণ ও কূটনৈতিক পদক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত প্রভাব বিস্তার করে থাকে।