বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আর কখনই কোনো বিদেশি শক্তির কাছে মাথা নত করবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, অতীতে অনুসৃত পরনির্ভরশীল ও নতজানু পররাষ্ট্রনীতির ইতি টানা হয়েছে। বর্তমান সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে নিজস্ব আত্মমর্যাদা ও মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংসদকে আশ্বস্ত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বাস্তবসম্মত, সবল ও দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতির ওপর ভিত্তি করে দেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। কোনো প্রকার বহিঃশক্তির অন্যায্য চাপের কাছে সরকার নতি স্বীকার করবে না। এই নীতিকে সামনে রেখেই সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা পরিচালিত হবে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকের কূটনীতির তীব্র সমালোচনা করে খলিলুর রহমান বলেন, যেকোনো দেশের পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে বিদেশে অবস্থিত দূতাবাসগুলো। অথচ বিগত ১৫ বছরের দুঃশাসনে জাতীয় পররাষ্ট্রনীতির একটি বড় অংশ নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে ছিল না। বহির্বিশ্বে থাকা বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানো কিংবা আন্তর্জাতিক স্বার্থ সুরক্ষায় তৎকালীন সরকারের কার্যকর কোনো আগ্রহ বা উদ্যোগ ছিল না।
কূটনৈতিক কার্যক্রমে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা ফেরাতে নেওয়া নতুন পদক্ষেপের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিদেশে অবস্থিত প্রতিটি দূতাবাসের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড নিয়মিত পর্যবেক্ষণে আনা হচ্ছে। এজন্য একটি আধুনিক কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন ব্যবস্থা বা ‘কাজের মূল্যায়নের সূচক’ (কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর) প্রণয়ন করা হচ্ছে। এই নির্ধারিত মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করেই প্রতিটি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের কাজের সামগ্রিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে।
একই সঙ্গে কূটনৈতিক ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের সময় বিদেশি মিশনগুলোর সামগ্রিক অগ্রগতি ও ব্যয় সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সংসদের সামনে তুলে ধরা হবে। জনগণের প্রতিনিধিদের এসব তথ্য জানার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং সরকার সর্বোচ্চ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।