রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিত করতে বড় উদ্যোগ বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। ঢাকার আমিনবাজারের বর্জ্যাগার (ল্যান্ডফিল) থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের কাজ পুরোদমে এগিয়ে নিচ্ছে একটি চীনা প্রতিষ্ঠান। আগামী ১৮ মাসের (দেড় বছর) মধ্যে এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় সঞ্চালন ব্যবস্থায় (গ্রিডে) যুক্ত হবে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন প্রকল্প এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং রাষ্ট্রদূত নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার বিষয়ে সম্মতি প্রকাশ করেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিস্তারিত তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানান, রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং একই সঙ্গে জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এই প্রকল্প অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আগামী দেড় বছরের মধ্যে ময়লা-আবর্জনা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় সঞ্চালন ব্যবস্থায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রকল্পটি চূড়ান্ত বাস্তবায়নে আগামী ২ সেপ্টেম্বর চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে একটি আনুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের প্রাথমিক সকল প্রস্তুতি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। বেইজিংয়ে মূলত বিনিয়োগকারী ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট চীনা কোম্পানি এবং বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের মধ্যে অর্থায়ন সংক্রান্ত চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদিত হবে।
চীনের এই বিনিয়োগ ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। প্রতিদিন ঢাকায় উৎপাদিত হাজার হাজার টন কঠিন বর্জ্য পরিবেশসম্মত উপায়ে পুড়িয়ে ও প্রক্রিয়াজাত করে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তা সম্পদে রূপান্তর করা হবে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ কমবে, অন্যদিকে নবায়নযোগ্য ও বিকল্প জ্বালানির ব্যবহারে দেশের বিদ্যুৎ খাত সমৃদ্ধ হবে।
বর্জ্য বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি বাংলাদেশে অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন খাতেও চীনের বিনিয়োগ বাড়ছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মোংলা সমুদ্রবন্দরের আধুনিকায়ন ও সার্বিক উন্নয়নে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। এছাড়া মোংলা বন্দরের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের আন্তঃসংযোগ বৃদ্ধি এবং ঢাকার তিনটি বড় বস্তি আধুনিকায়নে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে।