জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানিলন্ডারিংয়ের (অবৈধ অর্থপাচার) অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস (পরশ), তাঁর স্ত্রী নাহিদ সুলতানা এবং তানজীন ওহাব বৃষ্টি নামের এক নারীসহ মোট তিনজনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির এই আদেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি দুদকের উপপরিচালক (পর্যবেক্ষণ ও বিচারণ) এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা এ কে এম মাহবুবুর রহমান অভিযুক্তদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে লিখিত আবেদন জানান। দুদকের ওই আবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ নিজের নামে এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন করেছেন। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করে বিদেশে পাচারের চেষ্টা করেছেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে।
দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনে নিবিড় ও গভীর অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অনুসন্ধান চলাকালীন নির্ভরযোগ্য গোপন সূত্রে সংস্থাটি জানতে পেরেছে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা যেকোনো সময় গোপনে দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা করছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদনে যুক্তি তুলে ধরেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিদেশে পালিয়ে গেলে তাদের আর্থিক দুর্নীতির মূল তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ ব্যাহত হবে এবং পুরো অনুসন্ধান প্রক্রিয়া মুখ থুবড়ে পড়বে। ফলে রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থরক্ষা ও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের স্বার্থে অবিলম্বে তাঁদের দেশত্যাগ ঠেকানো একান্ত প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত দুদকের আবেদন মঞ্জুর করে তাঁদের বিদেশযাত্রায় আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা দেন। এই আদেশের অনুলিপি বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।