দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৯২ জন শিশু। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৫ শিশুর প্রত্যেকেই হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। তবে এই সময়ে পরীক্ষাগারে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ১৭২ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং বাকি ৯২০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৮৫১ জন হাম বা এর উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৭৭ জন শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৭৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৫ শিশু। অর্থাৎ গত চার মাসে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৭১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
একই সময়ে দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ১৬৪ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে পরীক্ষার মাধ্যমে ১৩ হাজার ৯০৭ জনের শরীরে হামের জীবাণু নিশ্চিত হওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত মোট ৯৬ হাজার ৮৭৮ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে, যার মধ্যে ৯৩ হাজার ২৬০ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে, বিশেষ করে যদি তারা অপুষ্টিতে ভোগে বা তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। হামের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে র্যাশ বা ফুসকুড়ি, সর্দি, কাশি এবং চোখ লাল হওয়া।
সাধারণত ৯ মাস এবং ১৫ মাস বয়সে শিশুদের হামের দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, কোনো শিশু যদি এই টিকা থেকে বাদ পড়ে থাকে, তবে দ্রুততম সময়ে তাকে টিকার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত বা দুর্গম এলাকার শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন, কারণ সেখানে এ ধরনের ছোঁয়াচে রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। কোনো শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দিলে তাকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হবে এবং অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখতে হবে।