সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি ক্রমেই আশঙ্কাজনক হয়ে উঠছে। হাম ও হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশে আরও চার শিশুর deaths (মৃত্যুর) খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ৭৭৩ জন শিশু হাম ও এই রোগের বিভিন্ন শারীরিক উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে হাম পরিস্থিতি সংক্রান্ত নিয়মিত দৈনিক ও হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য বিবরণী অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে একজন রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। অন্যদিকে, বাকি তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে সিলেট অঞ্চলে। এই নতুন চারজনসহ চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে হাম ও হামের বিভিন্ন জটিল উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ৭৮৪ জন শিশুর মৃত্যু হলো। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, মোট মৃত শিশুদের মধ্যে পরীক্ষাগার বা ল্যাবরেটরিতে হামের জীবাণু নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৯৫ জন শিশু।
প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে মোট এক লাখ ১৬ হাজার ৭১০ জন শিশুর শরীরে হামের বিভিন্ন লক্ষণ বা উপসর্গ প্রকাশ পেয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এই দীর্ঘ সময়ে মোট ১৪ হাজার ৩১৮ জন শিশু সরাসরি হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং দেশের স্বাস্থ্য পরীক্ষাগারগুলোতে নিশ্চিতভাবে ৪ হাজার ৬৯৩ জন শিশুর শরীরে হামের ভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
তীব্র উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ভর্তি হতে হয়েছে মোট ৯৯ হাজার ২৪৯ জন শিশুকে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে সেবা গ্রহণ করার পর সুস্থ হয়ে এ পর্যন্ত ৯৫ হাজার ৫২৯ জন শিশু হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছে।
সবশেষ ২৪ ঘণ্টার মাঠপর্যায়ের তথ্যে দেখা গেছে, নতুন করে ৬৪৯ জন শিশু হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ও সাধারণ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছে বা বাড়ি ফিরে গেছে ৪৯৮ জন শিশু।
চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক বায়ুবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) আওতায় হামের টিকা যথাসময়ে প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর, সর্দি, কাশি এবং চামড়ায় লালচে ফুসকুড়ি বা র্যাশের (চামড়ার লাল ফুসকুড়ি) মতো কোনো লক্ষণ দেখা দিলে কোনো প্রকার অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার জন্য অভিভাবকদের বিশেষভাবে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।