Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১০০

Roksana
29 August 2026, 01:50 AM পড়তে ১ মিনিট
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১০০

সিলেট বিভাগে হামের সংক্রমণ কাগজে-কলমে কম দেখালেও থামছে না মৃত্যুর মিছিল। গত এক সপ্তাহে ল্যাব পরীক্ষায় নতুন করে কোনো হাম রোগী শনাক্ত না হলেও সন্দেহজনক হাম ও এর উপসর্গে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৮ শিশু। সর্বশেষ গত রবিবার (১৯ জুলাই) আরও এক শিশুর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট প্রাণহানি ১০০ জনে এসে দাঁড়িয়েছে। সরকারি ল্যাব পরীক্ষায় নতুন আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যের কোটায় থাকলেও মাঠপর্যায়ে মৃত্যুর এই ধারাবাহিকতা অভিভাবকদের মনে তীব্র উদ্বেগ ও ভয়ের জন্ম দিয়েছে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ১০০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, এই ১০০ জন শিশুর মধ্যে মাত্র ৪ জনের ক্ষেত্রে ল্যাব পরীক্ষায় হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি ৯৬ জন শিশুই মারা গেছে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে। মৃত শিশুদের ভৌগোলিক হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা, যেখানে সর্বোচ্চ ৪৪ জন শিশু মারা গেছে। এছাড়া সিলেট জেলায় ৩৩ জন, মৌলভীবাজারে ১১ জন এবং হবিগঞ্জে ৮ জন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা ল্যাব পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সিলেটে স্থানীয়ভাবে হাম পরীক্ষার জন্য কোনো বিশেষায়িত ল্যাবরেটরি (পরীক্ষাগার) নেই। সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য রাজধানী ঢাকায় পাঠাতে হয়। সেখান থেকে প্রতিবেদন আসতে আসতে অনেক সময় আক্রান্ত শিশুটি মারা যায় অথবা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। ল্যাব পরীক্ষা সময়মতো না হওয়ার কারণেই সরকারি তথ্যে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা শূন্য দেখাচ্ছে বলে সাধারণ মানুষের ধারণা।

স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে ১৯ জুলাই পর্যন্ত মোট ৫৪৪ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে ২৮৭ জন, সিলেটে ১৮০ জন, হবিগঞ্জে ৫৫ জন এবং মৌলভীবাজারে ২২ জন। আক্রান্তের অর্ধেকের বেশি সুনামগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চলের বাসিন্দা, যেখানে ভৌগোলিক দুর্গমতা ও নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি থাকার কারণে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় ৩০০ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। শেষ ২৪ ঘণ্টাতেও ৮৫ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছে ৪৫ জন।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ করে ১ থেকে ২ বছর বয়সী শিশুরা হামের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এই বয়সে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে এবং সময়মতো টিকা না পেলে হামের কারণে নিউমোনিয়া (ফুসফুসের প্রদাহ), তীব্র ডায়রিয়া ও অপুষ্টিজনিত মারাত্মক শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ বিষয়ে সিলেটের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম বলেন, টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে। পূর্বে যেখানে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ জন শিশুর মৃত্যু হতো, এখন তা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। তবে শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হলে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
স্বাস্থ্য

সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১০০

R
Roksana | 20 July 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার