আন্তর্জাতিক ডেস্ক : লাতিন আমেরিকার দেশ চিলির দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় রোববার (১৮ জানুয়ারি) সর্বশেষ হতাহতের এই তথ্য জানিয়ে নুবলে ও বায়োবিও অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজধানী সান্তিয়াগো থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার (৩০০ মাইল) দক্ষিণে অবস্থিত নুবলে ও বায়োবিও অঞ্চলে টানা দুই দিন ধরে জ্বলছে আগুন। প্রবল বাতাস ও গরম আবহাওয়ার কারণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই দাবানলে এ পর্যন্ত ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বায়োবিও অঞ্চলের পেনকো শহরের ২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মাতিয়াস সিদ ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ভোর ২টা ৩০ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আগুনের ঘূর্ণিঝড়ের মতো অবস্থা তৈরি হয়, যা নিচের শহরের ঘরবাড়ি গ্রাস করে নেয়। তিনি আরও বলেন, আমরা শরীরের কাপড় ছাড়া কিছুই নিতে পারিনি। আরও ২০ মিনিট থাকলে আমরা পুড়ে মারা যেতাম।
ঘটনার পর ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি, ছাই হয়ে যাওয়া পিকআপ ট্রাক ও গাড়িতে ভরা এক ভয়ার্ত, জনশূন্য নগরী। পেনকো শহরেই এখন পর্যন্ত অধিকাংশ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র রদ্রিগো ভেরা। প্রতিবেশী ছোট বন্দর শহর লিরকেনেও পরিস্থিতি ছিল সমান ভয়াবহ। প্রায় ২০ হাজার জনসংখ্যার এই শহরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আগুন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে।
জাতীয় দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রতিক্রিয়া সংস্থার পরিচালক আলিসিয়া সেব্রিয়ান জানান, সবচেয়ে বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বায়োবিও অঞ্চলের পেনকো ও লিরকেন শহর থেকে। এই দুই শহরের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। বায়োবিও অঞ্চলের বন সংরক্ষণ সংস্থার প্রধান এসতেবান ক্রাউসে বলেন, রোববারের (১৮ জানুয়ারি) আবহাওয়া দমকলকর্মীদের জন্য প্রতিকূল ছিল। উচ্চ তাপমাত্রা ও প্রবল বাতাস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ-মধ্য চিলিতে দাবানল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশটিতে চরম আবহাওয়া, খরা ও বন্যার মতো দুর্যোগ বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র : এএফপি