ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে আগাম আমন ধান, আলু ও শীতকালীন সবজি খেতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাতাসে নুয়ে পড়ে আগাম জাতের পাকা ধান পানিতে ডুবে নষ্ট হচ্ছে। এদিকে যেসব জমিতে আগাম আলু বপণ করা হয়েছে, সেসব জমিতে পানি জমে বীজ আলু পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আগাম শীতকালীন সবজির জমিতেও দেখা দিয়েছে শিকড় পচে যাওয়ার আশঙ্কা। এ নিয়ে কৃষকেরা চরম হতাশায় পড়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
রোববার (৫আক্টোবর) বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠে মাঠে আগাম জাতের পাকা ধান বাতাসে নুয়ে পড়েছে, কোন কোন জমিতে বৃষ্টির পানিতে ফসল নিমজ্জিত হয়ে আছে। ধানের শিষ ভিজে রং নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, কোথাও কোথাও ঝরে পড়ছে শিষ। আলু খেতে পানি জমে আছে, এতে চরম হতাশায় পড়েছেন কৃষকেরা।
বর্তমানে ফসলের মাঠে হাইব্রিড, টিয়া, ধানিগোল্ড, জটাপারি জাতের আগাম আমন ধান রয়েছে,যা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কাটা হতো। এসব ধান বাতাসে নুয়ে পড়েছে। শুধু ধান নয়, ক্ষতির মুখে পড়েছেন শীতকালীন সবজি চাষিরাও। মাঠে ইতিমধ্যে আগাম আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শসা, টমেটো, বেগুন ও মূলার আবাদ হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে শাক-সবজির খেতে পানি জমে গাছ পচে যাওয়ার উপক্রম।
উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের জাফরপুর গ্রামের কৃষক ছামছুল হক এর প্রায় ১০ বিঘা জমির আগাম জাতের ধান নুয়ে পড়েছে। একই এলাকার ইছব আলীর দেড় বিঘা। তারা বলেন, ‘আর কয়েক দিনের মধ্যে ধান কাটতাম। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমেছে। শিষ পানিতে ডুবে রং কালচে হয়ে যাচ্ছে। বেশিরভাগ ধান চিটা ধরে নষ্ট হবে। এতে ফলন যেমন কমবে, তেমনি বাজারে ধানের দামও মিলবে না।
ওই এলাকার কৃষক আলম বলেন, দেড় বিঘা জমিতে এক সপ্তাহ আগে আগাম আলু চাষ করেছেন। এরই মধ্যে বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমেছে। এভাবে বৃষ্টি হলে বীজ আলু পানিতে পচে নষ্ট হয়ে যাবে। উপজেলার গঙ্গাপ্রসাদ এলাকার কৃষক মকসেদ আলীর ১ বিঘা জমিতে আগাম আলু চাষ করেছেন। বৃষ্টিতে আলুর জমি ডুবে আছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের সবজির লক্ষ্যমাত্রা ৬৫০ হেক্টর এবং ১ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা রয়েছে। এছাড়া ৪ হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দিনাজপুর আবোহাওয়া অদিপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, গত শনিবার সকাল ৯টা থেকে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় দিনাজপুরে ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগামীকাল থেকে আবহাওয়া পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার থেকে ঝলমলে রোদের দেখা মিলতে পারে। এর মাঝে আকাশ আংশিক মেঘাচ্ছন্ন এবং কিছু কিছু স্থানে ২/১ পশলা হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের লোকজন মাঠে খোঁজখবর রাখছেন। বৃষ্টিতে কিছু এলাকার আগাম আমন ধান নুয়ে পড়েছে এবং শীতকালীন সবজিতে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, সেগুলোতে পাকা ধানের সমস্যা হয়েছে। তবে পানি নেমে গেলে তেমন সমস্যা হবে না।