তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি: পঞ্চগড় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প (বিএমডিএ) এর সেচ পাম্প অকেজো থাকায় বোরো-ইরি রোপা লাগাতে পারছে না চাষিরা। সেচ মেশিন নষ্ট হলে কৃষকদের কাছে বিভিন্নভাবে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা সদর ইউনিয়নের শতাধিক কৃষক।
জানা যায়, সাহেবজোত এলাকায় বিএমডিএ (পিটি-২) গভীর নলকূপের অধীনে ৫টি গ্রামের কয়েকশ’ কৃষক জমিতে ১৫০ টাকা ঘণ্টা হিসেবে পানি সেচ সুবিধা নিয়ে বোরো-ইরি চাষাবাদ করেন। গত ১৯ ডিসেম্বর রাতে গভীর নলকূপটির বৈদ্যুতিক প্রি-পেইড মিটার ও লোহার দু’টি মই চুরি হয়।
ওই এলাকার কৃষক সাদ্দাম হোসেন, শরিফ উদ্দীন, আনারুল, রাজিউল, হোসেন আলী, রহিম উদ্দীন ও শফিকুলের অভিযোগ, বোরো ইরি ধানের বীজতলা তৈরিসহ জমি চাষ করেছেন তারা। কিন্তু সেচের অভাবে রোপা লাগাতে পারছেন না। বর্তমানে গভীর নলকূপটি চালুর জন্য বিএমডিএ প্রকল্প তেঁতুলিয়া উপজেলার দায়ীত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মোজাহারুল ইসলাম তাদের কাছে ৪০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করেন।
তবে কি হিসেবে টাকা নেবেন এবং কিভাবে পরিশোধ করবেন সেই ব্যাপারে কিছু বলছে না। চাষিরা উক্ত টাকা দিতে অস্বীকার করায় বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ গভীর নলকূপটি চালু করতে গরিমসী করছে। আগামী ১৫/২০ দিনের মধ্যে নলকূপটি চালু না হলে চাষিদের বীজতলা নষ্ট হবে।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, আমরা টাকা দিয়ে মেশিন ঠিক করে নিব আবার তাদের ঘণ্টা হিসেবে পানির বিল দিতে হবে। এছাড়া অন্যান্য সময়ে মেশিন নষ্ট ও বিদ্যুতের ফেস কেটে গেলেও কৃষকদের কাছে টাকা তুলছে। এবিষয়ে এলাকার কৃষকরা জরুরি ভিত্তিতে নলকূপটি চালুর জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে গণআবেদন করেছে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মোজাহারুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাক্ষাৎকার দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। এছাড়া প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদুল ইসলাম অফিসে না থাকায় মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, কৃষকদের কাছে এরকম একটি অভিযোগ পেয়েছি। সেচ কমিটির সভায় আলোচনাকালে পঞ্চগড় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প (বিএমডিএ) জোনের কর্তৃপক্ষকে সেদিন ডাকা হবে।