কাহারোল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : আর কয়েকদিন পরেই শুরু হতে যাচ্ছে বাঙালি হিন্দু ধর্মাবম্বলীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব। আর এ পূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন প্রতিমা তৈরির শিল্পীরা। শিল্পীরা রাত-দিন সমান ভাবে প্রতিমা তৈরি করতে দেখা যাচ্ছে কাহারোল উপজেলা সদরসহ গ্রামীণ জনপদের দুর্গা পূজামন্ডপ ও মন্দিরগুলোতে। প্রতিমা তৈরির কারিগর বা শিল্পীরা তাদের অতি পরিশ্রমের প্রতিমা তৈরিতে তারা প্রতিযোগিতায় নেমেছেন বলে অনেকেই জানিয়েছেন। ঋতু চক্র হিসেবে এখন চলছে শরৎকাল। আর এই শরৎকালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাঙালি হিন্দু ধর্মাবম্বলীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ৯৮টি দুর্গাপূজা মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রতিমা তৈরির শিল্পীদের ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা সদরে পাশে অবস্থিত দেওনাঘাটা মন্দিরে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগর রঞ্জন কর্মকার জানান, আমি এবছর ৪টি দুর্গা মন্ডপে দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরির কাজ হাতে নিয়েছি। একটি মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করতে প্রায় ১৮ দিন সময় লেগে যায়। প্রতিটি প্রতিমা তৈরির কাজের মজুরি হিসেবে ৪০-৪২ হাজার টাকার মতো পেয়ে থাকি। তবে পূজার শুরুর আগেই আমি প্রতিমা তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করব যদি ভগবান আমার শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখে। গত কয়েকদিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামন্ডপগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দুর্গামন্ডপে প্রতিমা তৈরি করতে কাদা-মাটি, বাঁশ, সুতলি দিয়ে শৈল্লিক ছোঁয়ায় তিল তিল করে গড়ে তোলা দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরিতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির শিল্পীরা। আবার কোনো কোনো প্রতিমায় মাটি-কাদা লাগানোর পর এখন পুরোদমে প্রতিমা তৈরির শিল্পীরা প্রতিমার গায়ে রঙ তুলি দিয়ে রঙ লাগাচ্ছেন।
এদিকে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি ও কাহারোল উপজেলা কেন্দ্রীয় মন্দির কমিটির সভাপতি বাবু গোপেশ চন্দ্র রায় জানান, অত্র কাহারোল উপজেলা সদরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় মন্দিরে সার্বজনীন দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরির কাজ ইতোমধ্যে সম্পূর্র্ণ করা হয়েছে এবং এখন শুধু রঙকরণ করার অপেক্ষার পালা। পূজা শুরু হলেই পূজার দিন থেকেই পূজা মন্ডপের পর্দা উঠে যাবে এবং সকলেই মা দুর্গাকে দেখেতে পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অপরদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক মোকলেদা খাতুন মীম জানান, অত্র উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ৯৮টি পূজামন্ডপে পূজার আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সনাতন ধর্মালম্বী সম্প্রদায়ের লোকজনেরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশা করা যাচ্ছে, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে এই উপজেলায় শারর্দীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করবেন সনাতন ধর্মাবম্বী সম্প্রদায়ের মানুষজনেরা।