Logo
ট্রেন্ডিং: নারায়ণগঞ্জে যৌথবাহিনীর অভিযানে গাজাসহ গ্রেফতার ২ নারীর সম্মান, ঘরের সন্তানের আহ্বান দেশের মানুষ আর আওয়ামী লীগকে দেখতে চায় না: খোকন অন্ধকারে ইউক্রেন!

শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থা

BN DESK
31 January 2026, 06:13 PM পড়তে ১ মিনিট

চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে বন্দরের কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এতে জাহাজে পণ্য ওঠানামা বন্ধ থাকায় আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও ব্যবহারকারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এ কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিকরা।

আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল থেকে জেটিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মচারী ও বেসরকারি শ্রমিকরা কর্মবিরতিতে অংশ নেন।

বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘বন্দরের লাভজনক ইয়ার্ড এনসিটি বিদেশিদের হাতে দেওয়ার অর্থ হলো দেশ বিক্রি করে দেওয়া । এ সরকারের কোনো অধিকার নেই লাভজনক এ ইয়ার্ড বিদেশিদের কাছে লিজ দেওয়ার। আমরা এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারি না। আমাদের আজকের কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ও কর্মচারী অংশ নিয়েছেন। বিকেল চারটা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। এই আন্দোলনের কারণে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। আগামীকাল রবিবারও আমাদের কর্মসূচি চলবে।

জানা গেছে, কর্মবিরতির ফলে বন্দরের কয়েকটি জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কাজ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে বন্দরে নোঙর করা একাধিক জাহাজ নির্ধারিত সময়ে পণ্য খালাস করতে না পারায় জাহাজ জট এবং অতিরিক্ত খরচের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে ক্ষতিতে পড়বেন ব্যবসায়ীরা।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক দিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও কোটি টাকার বাণিজ্যিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন, জাহাজে পণ্য ওঠানামা না হওয়া ও ডেলিভারি না হওয়ায় সিঅ্যান্ডএফ সদস্যদের অলস সময় কাঠাতে হয়েছে। তবে কাস্টমস হাউসের পূর্বের কিছু ডকুমেন্টের কাজ হয়েছে। বন্দরের এ সমস্যা দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরি।

এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সভা-মিছিল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়া দ্রুত বিচার আইন ২০০২, সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা–১৯৭৯ এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা–১৯৯১ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এসব কর্মকাণ্ড বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করছে এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থের পরিপন্থী। বন্দর পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে অফিস চলাকালে মিছিল ও আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে যারা কাজে যোগ দেয়নি তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার এ কর্মসূচির ডাক দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। কর্মসূচি অনুযায়ী, রোববারও ৮ ঘণ্টা প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রম স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে বন্দরের কার্যক্রম আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ সময়ে এনসিটিতে বেসরকারি ডিপো থেকে আনা কিছু রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার সীমিত আকারে জাহাজে তোলা হচ্ছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) নগরের আগ্রাবাদের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এ আন্দোলনের ঘোষণা দেন শ্রমিক দলের নেতারা। এ সময় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মূল ভবনে বিক্ষোভ করেছে অর্ধশতাধিক শ্রমিক। তারা ‘গো ব্যাক গো ব্যাক ডিপি ওয়ার্ল্ড’ স্লোগান দেন।

এলাকা: চট্টগ্রাম
পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
ইউরোপ

শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থা

B
BN DESK | 31 January 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার