ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: মোঘল আমলের প্রশাসনিক রাজধানী হিসেবে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের নাম একসময় উচ্চারিত হতো দেশের গন্ডি পেরিয়ে দূরদেশেও। এখানকার প্রাচীন স্থাপত্য, মসজিদ, দূর্গ, মাদ্রাসা ও প্রশাসনিক ভবনগুলো সেই সমৃদ্ধ অতীতের সাক্ষ্য বহন করে আসছে। কিন্তু সংস্কারের অভাব, অবহেলা এবং প্রাকৃতিক ক্ষয়ের কারণে এই নিদর্শনগুলো আজ বিলীন হওয়ার পথে।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ঘোড়াঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে মোঘল, পাল, সেন আমলসহ অসংখ্য স্থাপত্য নিদর্শন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ঘোড়াঘাট দূর্গ, বারোপাইকের দূর্গ, ঘোড়াঘাট ভাঙ্গা মসজিদ, সূরা মসজিদ, শাহ্ ইসমাইল গাজীর মাজার, নাম শনাক্ত না হওয়া বিরাহিমপুর কাচারী শাহ্ ইসমাইল গাজীর খাদেমের মাজার, শহরগছি সূফী সম্রাট হজরত সামশুদ্দিন ও তার ছেলে কাজী সদর উদ্দিন (র.) এর মাজার শরীফ এবং তাদের বাসভবনের ধ্বংসাবশেষসহ আরও অনেক ঐতিহাসিক স্থাপত্য।
একসময় এই স্থাপনাগুলো ছিল গবেষক ও পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ স্থাপনাই মাটির নিচে চাপা পড়ে গেছে বা গাছপালা-ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার কিছু প্রাচীন মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় হলেও বেশিরভাগই জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধান থাকলেও কার্যত সংস্কার বা সংরক্ষণের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। ফলে বৃষ্টির পানি ও প্রাকৃতিক ক্ষয়ক্ষতির কারণে স্থাপনাগুলোর দেয়াল ও গম্বুজ ভেঙে পড়ছে। কিছু স্থানে আবার স্থানীয় অসাধু ব্যক্তিদের দখলে জমি চলে যাওয়ায় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের অস্তিত্বও ঝুঁকির মুখে। স্থানীয় যুবসমাজ ও সংস্কৃতি কর্মীরা নিজ উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা কার্যক্রম চালালেও তা যথেষ্ট নয়।
ঘোড়াঘাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এসএম মনিরুল ইসলাম বলেন, ইতিহাসের সাক্ষী এসব স্থাপনা দ্রুত সংস্কার না করা গেলে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে তাদের চোখের সামনে থেকে হারিয়ে ফেলবে ঘোড়াঘাটের গর্বের ইতিহাস। অচিরেই এসব স্থাপনা রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে ইতিহাস ধরে রাখতে হবে।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের বগুড়া ও রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক এ.কে.এম সাইফুর রহমান জানান, ঘোড়াঘাটের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ধীরে ধীরে সংরক্ষণ কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত বাজেট ও জনবল না থাকায় তা বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, উপজেলার ভাঙ্গা মসজিদ ও সূরা মসজিদ এবং প্রাচীন মন্দিরগুলো নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ঘোড়াঘাটের মসজিদ, মাজার ও মন্দিরগুলো পরিদর্শন করেছি। সংস্কারের জন্য অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। দ্রুতই প্রকল্প অনুমোদন হয়ে সংস্কার কাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।