রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল পৌরসভার এক কোণে ছোট্ট এক ঘর। সেখানে বসে প্রতিদিন ঘুরে চলে জীবনের চাকা হাতে যন্ত্রপাতি, সামনে পুরনো এক বাইসাইকেল, আর পাশে ভাঁজ করা একটি পত্রিকা ‘দৈনিক করতোয়া’। এটাই ৬৫ বছর বয়সী মোঃ হাবিব-এর জীবনের প্রতিচ্ছবি।
পেশায় সাইকেল মেকার হাবিব প্রতিদিন কাজের ফাঁকে নিয়ম করে পড়েন এই পত্রিকাটি। গত ৪০ বছর ধরে কোনোদিনও তিনি করতোয়া পড়া বাদ দেননি। জন্ম তাঁর রাণীশংকৈলের ভান্ডারা গ্রামে, এক দরিদ্র পরিবারে। বাবা মোঃ ইদ্রিস আলীও ছিলেন সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ। ছোটবেলা থেকেই কষ্ট ও পরিশ্রমে গড়া হাবিবের জীবন আজও একই ছন্দে চলছে, হাতে রেঞ্জ, পাশে টিউব, মাথায় ঘাম, মুখে হাসি। তিনি জানান,“আমার জীবনের শুরু থেকে কষ্টে আছি, কিন্তু করতোয়া পত্রিকা পড়া কখনো বন্ধ করিনি। আমি ভাত না খেয়ে থাকতে পারবো, কিন্তু করতোয়া না পড়ে থাকতে পারবো না।”
৪০ বছর আগে প্রতিদিন ৩০-৪০ টাকা আয় হতো হাবিবের। তখন তাঁর পরিবারের খাবারের জন্য ৪/৫ কেজি চালই যথেষ্ট ছিল। আজ সময় বদলেছে, দাম বেড়েছে, কিন্তু তাঁর অভ্যাস আর মনোভাব একই রয়ে গেছে, সততা, পরিশ্রম আর পত্রিকার প্রতি ভালোবাসা। হাবিবের সংসারে পাঁচ মেয়ে সবারই বিয়ে দিয়েছেন তিনি। এখন স্ত্রীকে নিয়ে সুখেই আছেন। তাঁর নাতি-নাতনির সংখ্যা এখন ১২ জন। ধর্মপ্রাণ এই মানুষটি নামাজের সময় কাজ ফেলে মসজিদে যান। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করেন নিয়মিত।
তিনি বলেন, “জীবন যত কষ্টেরই হোক, আমি আল্লাহর উপর ভরসা রাখি। মানুষ যেন কখনো বুঝতে না পারে আমি কষ্টে আছি সেটাই আমার চেষ্টা।”নিজের কোনো দোকান নেই, অন্যের জায়গায় বসে কাজ করেন তিনি। কিন্তু এতে কোনো আফসোস নেই হাবিবের। বরং হাসিমুখেই বলেন, “এই দোকানেই আমি সুখ পাই। শেষ বয়স পর্যন্ত এভাবেই সাইকেল সারাবো আর করতোয়া পড়বো ইনশাআল্লাহ।” মোঃ হাবিবের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয় অভাব মানুষকে হার মানাতে পারে না, যদি তার ভেতরে থাকে ভালোবাসা, অধ্যবসায় ও আত্মসম্মান।