ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় আড়াই বছরের কন্যা শিশুকে হত্যা করে আত্মহত্যা করেছেন মর্জিনা বেগম (২৩)।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) গফরগাঁওয়ের পাগলা থানায় এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার পাগলা থানাধীন দত্তের বাজার ইউনিয়নের বিরই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই নারীর স্বামী শাহীনকে আটক করেছে। পাগলা থানা পুলিশ মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শাহীন সৌদি প্রবাসী ছিলেন। শাহীনের স্ত্রী মর্জিনা বেগম প্রায় ছয় মাস ধরে মানসিক অসুস্থ। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য শাহীন আড়াই মাস আগে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে স্ত্রীকে স্থানীয় কবিরাজ দিয়ে চিকিৎসার করাচ্ছিলেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে মর্জিনা বেগম বসত ঘরের দরজা বন্ধ করে দড়ি দিয়ে প্রথমে কন্যা শিশু ময়নাকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে।পরে একই দড়িতে নিজেও আত্মহত্যা করেন। পরে শাহীন বাড়ি ফিরে দরজা বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে পাশের কক্ষের সিলিং উঠে ঘটনা দেখে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পাগলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দরজা খুলে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যান। এ সময় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাহীনকেও আটক করে।
প্রতিবেশী বাচ্চু মিয়া বলেন, শাহীন ও মর্জিনার মধ্যে কখনো কলহ দেখিনি। পারিবারিকভাবে তাদের কোনো সমস্যাও ছিল না। মর্জিনা কয়েক মাস ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। মাঝে মধ্যে নিজের মাথার চুল টানাটানি করতেন।
চিকিৎসাও চলছিল, কিন্তু হঠাৎ করে কি হলো তা আল্লাহ জানেন।
পাগলা থানার ওসি ফেরদৌস আলম বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।