আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে মাঠে নেমেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। সরকারের নির্দেশনায় ঈদের আগের সাত দিন ও পরবর্তী তিন দিন বিশেষ সতর্কতায় দায়িত্ব পালন করবেন বিজিবি সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণে আনতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকা ও উড়াল সড়কের (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া শিল্প ও জনবহুল এলাকা সাভারের নবীনগর ও বাইপাইল, গাজীপুর সিটি করপোরেশন এবং গাজীপুর চৌরাস্তার মতো যানজটপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিজিবি সদস্যরা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন। ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করাই এই মোতায়েনের মূল লক্ষ্য।
বিজিবি সূত্রে আরও জানা গেছে, শুধু টহল নয়, মহাসড়কগুলোতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের পরিচালনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কাজেও সহায়তা প্রদান করছেন বিজিবি সদস্যরা। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ টোল প্লাজাগুলোতে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় এবং গাড়ি চলাচলে গতি বজায় থাকে, সে লক্ষ্যে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা মেনে ঈদের আগে সাত দিন এবং ঈদ পরবর্তী তিন দিন—মোট ১১ দিন এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা চলমান থাকবে।
ঘরমুখী মানুষের যাত্রা যাতে ভোগান্তিমুক্ত হয় এবং সড়কে বিশৃঙ্খলা রোধ করা যায়, তার জন্য বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করছেন। আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধে এবং মহাসড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি সদস্যদের এই উপস্থিতি সাধারণ যাত্রীদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঈদ উপলক্ষে সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের অস্বাভাবিক চাপ থাকে। এই সময়ে কোনো ধরনের অরাজকতা বা যানজট যাতে দীর্ঘস্থায়ী রূপ না নেয়, সে বিষয়ে বিজিবি অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনভেদে আরও নতুন নতুন এলাকায় বিজিবির টহল বাড়ানো হতে পারে।
প্রতি বছরই ঈদযাত্রায় ঘরমুখী মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাড়তি সতর্কতা নিঃসন্দেহে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটাবে। তবে শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিই যথেষ্ট নয়, একইসঙ্গে পরিবহন চালক, মালিক এবং যাত্রীদেরও ট্রাফিক আইন মানার ক্ষেত্রে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি প্রত্যেকের দায়িত্বশীল আচরণই পারে একটি আনন্দময় ও নিরবচ্ছিন্ন ঈদ উপহার দিতে।