আসছে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। রাজধানীবাসীর ভোগান্তি কমাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি পশুর হাটে বাড়তি নিরাপত্তা ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার সকালে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত এক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। তিনি বলেন, নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পরিবেশ উপহার দেওয়া আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যেই কোরবানির পশুর বর্জ্য আট ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
পশুর হাটের শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, প্রতিটি হাটে সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) খোলা থাকবে। হাটে আগত ক্রেতা ও বিক্রেতারা যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারেন, সেজন্য পুলিশি টহলের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া পশুর হাটের বর্জ্য হাট শেষ হওয়ার পরপরই দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিষ্কার করে পরিবেশ স্বাস্থ্যকর রাখা হবে।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের প্রকোপ মোকাবিলা প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমরা জিরো টলারেন্স বা শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি অনুসরণ করছি। বর্তমানে রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডে মশা প্রজননস্থল শনাক্তে বিশেষ জরিপ কাজ চলছে। এই জরিপের প্রাপ্ত তথ্য ও ফলাফল বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মশা নিধনের এই সমন্বিত প্রচেষ্টা সফল হলে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় তিনি নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সবজি বাগানের সৌন্দর্যবর্ধন ও ল্যান্ডস্কেপিং (ভূদৃশ্য উন্নয়ন) কাজের উদ্বোধন করেন। নগরীর সৌন্দর্য ধরে রাখা এবং পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ার অংশ হিসেবে এ ধরনের ছোট ছোট উন্নয়ন প্রকল্প নিয়মিত চলমান থাকবে বলে তিনি জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় কাউন্সিলর এবং সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, কোরবানির বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নগর কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতার করার জন্য।
কোরবানির বর্জ্য আট ঘণ্টায় অপসারণ করার ঘোষণাটি নিঃসন্দেহে সাহসী এবং প্রশংসনীয়। তবে শুধু ঘোষণা নয়, এটি বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের তৎপরতা এবং নগরবাসীর সচেতন অংশগ্রহণ অপরিহার্য। পাশাপাশি ডেঙ্গু মৌসুমের শুরুতেই ওয়ার্ডভিত্তিক জরিপ ও আগাম সতর্কতা গ্রহণের উদ্যোগটি সময়োপযোগী। শহরকে কেবল পরিষ্কার রাখলেই হবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে ঢাকাকে বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশন ও নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই।