রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশন মিলনায়তনে শুরু হয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) গুরুত্বপূর্ণ সভা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
সোমবার সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই সভায় দেশের আগামী অর্থবছরের সামগ্রিক উন্নয়ন রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হচ্ছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি হলো সরকারের সেই বার্ষিক পরিকল্পনা, যার মাধ্যমে সারা দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিভিন্ন জনসেবামূলক প্রকল্পের বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়। মূলত কোন খাতে কত টাকা খরচ হবে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোন প্রকল্পগুলো আগে বাস্তবায়ন করা হবে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র এই সভায় নির্ধারিত হচ্ছে।
সভায় উপস্থিত রয়েছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক ও মন্ত্রণালয়ের প্রধানরা। এদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এছাড়াও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সভায় অংশগ্রহণ করেছেন।
সূত্রে জানা গেছে, সভায় বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রাধিকার তালিকা পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে। বিশেষ করে, যে প্রকল্পগুলোর মেয়াদ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং যেগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে দ্রুত ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, সেগুলোতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সভায় আলোচনার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য যে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি প্রণয়নের প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। প্রতি বছর জুন মাসের দিকে পরবর্তী অর্থবছরের বাজেট চূড়ান্ত করার আগে এনইসি সভায় এই কর্মসূচির অনুমোদন নেওয়া হয়। এবারের সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য গৃহীত পরিকল্পনাগুলো দেশের উন্নয়নের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভা শেষে সরকারিভাবে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে ব্রিফিং বা সংবাদ সম্মেলন করা হবে। সেখানে সভার সিদ্ধান্তগুলো এবং দেশের আগামী অর্থবছরের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস শাখা থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের এই সভা কেবল একটি রুটিন মাফিক আয়োজন নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণের একটি মাইলফলক। বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার এবং সময়মতো প্রকল্প সমাপ্ত করা বর্তমানে দেশের অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ। উন্নয়নের নামে অর্থ অপচয় রোধ করে জনগণের করের টাকার সর্বোচ্চ সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলেই কেবল প্রকৃত সুফল পাওয়া সম্ভব। সরকার উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন দেশের সাধারণ মানুষ।