Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

কসাই সংকট ও পারিবারিক ঐতিহ্য: ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে দ্বিতীয় দিনেও চলছে পশু কোরবানি

Roksana
29 August 2026, 02:06 AM পড়তে ১ মিনিট
কসাই সংকট ও পারিবারিক ঐতিহ্য: ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে দ্বিতীয় দিনেও চলছে পশু কোরবানি

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। ঈদের প্রথম দিনের তীব্র ব্যস্ততা ও কসাই সংকটের পর, অত্যন্ত আরামদায়ক পরিবেশ, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুসরণ করে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পশু কোরবানি করছেন অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মানুষ।


ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পালন করছেন পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের মূল উৎসবের দিন পেরিয়ে গেলেও উৎসবের আমেজ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বিন্দুমাত্র কমেনি। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন অলিগলি, পাড়া-মহল্লা ও প্রধান সড়কের পাশের ফাঁকা জায়গাগুলোতে নতুন করে শুরু হয়েছে পশু কোরবানির ব্যস্ততা। প্রথম দিনের মতো চারদিকে তাড়াহুড়ো, মানুষের উপচে পড়া ভিড় বা বিশৃঙ্খলা না থাকলেও, সবার মাঝে ত্যাগের মহান আদর্শ এবং উৎসবের আনন্দ সমানে বিরাজ করছে। ঈদের প্রথম দিন যারা নানা ব্যস্ততায় বা প্রতিকূলতায় সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু উৎসর্গ করতে পারেননি, তারা আজ সকাল থেকেই অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশে এই পবিত্র দায়িত্ব পালনে ব্রতী হয়েছেন। পাড়ার শিশু-কিশোরদের মাঝেও কোরবানির পশু ঘিরে রয়েছে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দ্বিতীয় দিনে কোরবানি দেওয়ার পেছনে নগরবাসীর নানাবিধ বাস্তব কারণ ও বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান ও দৃশ্যমান কারণ হলো প্রথম দিনের তীব্র কসাই (যারা অর্থের বিনিময়ে পেশাদারভাবে পশু জবাই ও মাংস কাটার কাজ করেন) সংকট। 

ঈদের দিন সকালে প্রায় প্রতিটি পরিবারেই একই সময়ে পশু জবাই করার এক ধরনের অলিখিত প্রতিযোগিতা থাকে। ফলে পেশাদার মাংস প্রস্তুতকারীদের চাহিদা ওই নির্দিষ্ট সময়ে বহুগুণ বেড়ে যায়। এই অস্বাভাবিক চাহিদার কারণে অনেকেই সঠিক সময়ে দক্ষ লোক খুঁজে পান না। আর যদিও বা পাওয়া যায়, তাদের পারিশ্রমিক থাকে সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের তুলনায় আকাশছোঁয়া। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি, দীর্ঘ অপেক্ষা ও অতিরিক্ত খরচ এড়াতে সচেতন নগরবাসীর অনেকেই স্বেচ্ছায় দ্বিতীয় দিনকে কোরবানির জন্য বেছে নিয়েছেন। তাদের মতে, এদিন চারপাশ বেশ শান্ত থাকে, কোনো রকম মানসিক চাপ ছাড়াই সুষ্ঠুভাবে মাংস কাটাকাটি, পরিমাপ এবং গরিব-দুঃখীদের মাঝে বণ্টনের কাজ অত্যন্ত সুচারুভাবে সম্পন্ন করা যায়।

তবে কেবল কসাই সংকট বা বাধ্যবাধকতাই নয়, অনেকের কাছে ঈদের পরের দিন কোরবানি করাটা একটি পারিবারিক প্রথা বা দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ। রাজধানীর মগবাজার এলাকার বাসিন্দা ইকবাল হোসেন তেমনই একটি পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি তার পরিবারের দীর্ঘদিনের রেওয়াজ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে গিয়ে বলেন, "আমাদের পরিবারে বহু বছর ধরেই ঈদের দ্বিতীয় দিনে পশু কোরবানি দেওয়ার একটি সুন্দর ঐতিহ্য চলে আসছে। প্রথম দিন আমরা সাধারণত আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে বেড়ানো, কুশল বিনিময় এবং নিজেদের মধ্যে সময় কাটানোর কাজে ব্যয় করি। এরপর দ্বিতীয় দিন সবাই মিলে একত্রে কোরবানির কাজে হাত দিই। এতে যেমন মাংস কাটার কাজের চাপ সবার মাঝে ভাগ হয়ে যায়, তেমনি সবাই মিলে একত্রে আনন্দ করার ও গল্পগুজব করার সুযোগও বেশি পাওয়া যায়।" এবারের ঈদেও তারা নিজেদের সেই পারিবারিক ঐতিহ্য পরম যত্বের সঙ্গে পালন করছেন এবং প্রতিবেশীদের মাঝে আনন্দচিত্তে মাংস বিলি করছেন।

অন্যদিকে, কোরবানির এই নির্ধারিত তিন দিনের সুযোগে পেশাদার ও মৌসুমি মাংস কাটুরেদের (যারা কেবল ঈদের সময় বাড়তি আয়ের আশায় এই পেশায় যুক্ত হন) আয়ও বেশ ভালো হচ্ছে। প্রথম দিনের তুমুল ব্যস্ততা ও হাড়ভাঙা খাটুনির পর দ্বিতীয় দিনেও তারা দম ফেলার ফুরসত পাচ্ছেন না। পেশায় অভিজ্ঞ কসাই মতিন মিয়া ঘামে ভেজা শরীরে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জানান, ঈদের প্রথম দিন ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত তিনি তার দলবল নিয়ে টানা তিনটি গরু জবাই ও মাংস প্রস্তুত করার কাজ করেছেন। কাজের সেই তীব্র ধারাবাহিকতা দ্বিতীয় দিনেও অব্যাহত রয়েছে। মতিন মিয়ার মতো আরও অনেক কসাই এখন শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন। এটি তাদের জন্য যেমন বাড়তি উপার্জনের একটি চমৎকার সুযোগ এনে দিয়েছে, তেমনি নগরবাসীকেও স্বস্তি দিচ্ছে।

ইসলামি শরিয়তের বিধানেও একাধিক দিন পশু কোরবানি করার এই সুযোগটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দেওয়া আছে। ইসলামি আইন বা শরিয়াহ (কোরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক জীবনব্যবস্থা) অনুযায়ী, কোরবানির নির্ধারিত সময়সীমা মোট তিন দিন। আরবি হিজরি বর্ষপঞ্জির সর্বশেষ মাস জিলহজের (যে মাসে পবিত্র হজ ও কোরবানি অনুষ্ঠিত হয়) ১০ তারিখ ঈদের মূল দিন থেকে শুরু করে ১১ ও ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের জন্য পশু কোরবানি করা সম্পূর্ণ বৈধ। মূলত মানুষের সার্বিক সুবিধা, সামাজিক বাস্তবতা এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করেই ইসলামে এই নমনীয়তা রাখা হয়েছে। ফলে অনিবার্য কোনো কারণ, লোকবলের অভাব, শারীরিক অসুস্থতা অথবা ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য কেউ যদি ঈদের প্রথম দিন কোরবানি করতে ব্যর্থ হন, তবে পরবর্তী দুই দিনেও তিনি পূর্ণ সওয়াবের আশায় নির্দ্বিধায় এই ধর্মীয় বিধান পালন করতে পারেন।


ঈদুল আজহার এই দ্বিতীয় দিনে পশু কোরবানির দৃশ্য আমাদের সমাজব্যবস্থার একটি বাস্তবমুখী, ইতিবাচক ও পরিবেশবান্ধব দিক তুলে ধরে। সবাই একদিনে কোরবানির চাপ না নিয়ে যদি এভাবে দুই বা তিন দিনে ভাগ করে নেন, তবে শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ রক্ষায় সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিনের কোরবানি অনেক বেশি সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে সম্পন্ন হতে দেখা যায়। শরিয়তের এই সহজ বিধানকে কাজে লাগিয়ে, পরিচ্ছন্নতার কথা মাথায় রেখে আগামীতে কোরবানির এই ধারা আরও সুশৃঙ্খলভাবে পালিত হবে এবং ত্যাগের এই মহান শিক্ষা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে—এমনটাই সবার প্রত্যাশা।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
জাতীয়

কসাই সংকট ও পারিবারিক ঐতিহ্য: ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে দ্বিতীয় দিনেও চলছে পশু কোরবানি

R
Roksana | 29 May 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার