কোর্ট রিপোর্টার : ফ্লাট দেওয়ার জন্য টাকা গ্রহণ করে বিশ্বাস ভঙসহ প্রতারণার অভিযোগ এনে দায়েরকৃত মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলম মিলনকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের তাজুরপাড়ার এএসএম ইবনে আজিজের ছেলে। তার বর্তমান ঠিকানা হিসেবে মালতিনগর মেধা টাওয়ার উল্লেখ করা হয়েছে।
হামিদুল আলমের পক্ষে আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বগুড়া সদর আমলি আদালতে স্থায়ী জামিনের আবেদন করা হয়। ওই আদালতের বিচারক মো. মেহেদী হাসান আসামির আবেদন শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করে ওই আদেশ দেন। এর আগে মিলনের স্ত্রী শাহজাদী আলম লিপির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে, তিনি পলাতক রয়েছেন।
উল্লেখ্য, বগুড়া শহরের নিশিন্দারা শাহ্পাড়ার মৃত মহির উদ্দিন শাহ্রে ছেলে জাহিদুর রহমান তোফার দায়ের করা মামলায় অভিযোগে বলা হয়, আসামি শাহজাদী আলম লিপি তার নির্মাণাধীন বহুতল ভবন মেধা টাওয়ারে স্বল্প মূল্যে একটি করে ফ্লাট ওই বাদিসহ ছয়জনকে দেওয়ার জন্য এক লাখ টাকা করে গ্রহণ করেন। তাতে চুক্তি অনুযায়ী অবশিষ্ট টাকা গ্রহণ না করে আসামি চুক্তি ভঙ করেন।
এতে বাদি ওই আসামিদের বিরুদ্ধে বিশ্বাস ভঙসহ প্রতারণার অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করেন। এই দম্পতির বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি প্রতারণার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। শাহজাদী আলম লিপি ২০২৩ সালের নির্বাচনে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসন থেকে (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে এলাকায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালান।
পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তার সরব উপস্থিতি স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এত কিছুটর পরেও তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হন। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন অংশগ্রহণ করেন। সে সময় নির্বাচনি মাঠে প্রচার-প্রচারণাসহ বিপুল অঙ্কের টাকা খরচ করে আলোচনায় থাকেন তিনি।
এদিকে ২০২৩ সালে অসুস্থতার কথা বলে ছুটিতে থাকলেও হামিদুল আলম মিলন বগুড়া-১ আসনে তার স্ত্রীর নির্বাচনি প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে সাময়িক অবসরে পাঠানো হয়। পরে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
ওই ভবন নির্মাণের সময় স্থানীয়দের পায়ে চলাচলের রাস্তার বিরাট একটি অংশ দখল করেন তিনি। এমন অভিযোগে মিলন দম্পতির বিরুদ্ধে বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। ওই সময় তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্থানীয়দের আপত্তির তোয়াক্কা না করে ভবটি নির্মাণ করেন।