ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার সফল গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বহু মানুষের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং এখন সময় এসেছে এই অর্জিত গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত ও শক্তিশালী করার।
আগামীকাল ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ বছর ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাণীতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই প্রাচীন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি জ্ঞানচর্চা, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও গবেষণায় উপমহাদেশে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ের আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষার্থীকে জীবন দিতে হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের বর্তমান যুগে বিভিন্ন কারিগরি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার ওপর জোর দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয়করণের (অটোমেশন) এই নতুন সময়ে প্রচলিত পাঠ্যक्रमকে (কারিকুলাম) যুগোপযোগী করার কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক কর্মপন্থা গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষাকে কেবল সনদপত্র সর্বস্ব (সার্টিফিকেটনির্ভর) না রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তির নিরাপত্তা (সাইবার সিকিউরিটি), অতি-ক্ষুদ্র প্রযুক্তি (ন্যানোটেকনোলজি) এবং কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের মতো বিষয়গুলোকে উচ্চশিক্ষার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রায়োগিক শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মেধার মূল্যায়নের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং জ্ঞানচর্চার মূল কেন্দ্র হিসেবে গবেষণার সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে। বিশ্বের উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের (অ্যালামনাই) শিক্ষা, গবেষণা ও নতুন আবিষ্কারের কাজে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক কর্মবাজারের উপযোগী করে তোলার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব দরবারে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় আরেকটি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সেই সঙ্গে তরুণদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ (ক্যাম্পাস) থেকেই উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি, যাতে তারা কেবল চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে। এ লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।